|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আঁখির শিক্ষক থেকে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের গল্প

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
৪৪৪ পঠিত
আঁখির শিক্ষক থেকে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের গল্প
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার কিসমত গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে অরনীকা জামান আঁখি। বাবা আশরাফুজ্জামান ছিলেন কৃষক, আর মা দেলোয়ারা বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য। তাদের অল্প আয়ে সংসার চালানো ও পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন ছিল। পরিবারে অসচ্ছলতা সত্ত্বেও বাধা অতিক্রম করে অদম্য ইচ্ছা নিয়ে এগিয়েছেন অরনীকা। সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে পরিবারের প্রথম গ্র্যাজুয়েট সম্পন্নকারী নারী তিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের ভাগ্য নিজেই বদলে নিয়েছেন এই তরুণী।
অসচ্ছলতার কারণে যখন আঁখির পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় আইডিএলসি ও প্রথম আলো ট্রাস্ট। ২০১৮ সালে তিনি অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি। এই বৃত্তির অর্থ তাঁর পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচের চাপ পুরোপুরি দূর করে দেয়। ফলে পরিবারকে আর কোনো অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আঁখি পুরো মনোযোগ দেন পড়াশোনায়। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউতে) থেকে অর্থনীতিতে সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।
পড়াশোনা শেষ করেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় আঁখিকে। অংশ নেন বিভিন্ন চাকরির ইন্টারভিউতে। শেষ পর্যন্ত নিজের অর্জিত শিক্ষাঙ্গনেই চাকরির সুযোগ করে নেন তিনি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অ্যাডজাঙ্কট্ ম্যাথ ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দেন নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে এইউডব্লিউতে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি জুনিয়র ম্যাথ ফ্যাকাল্টি হিসেবে স্থায়ী হন।

আইডিএলসি ও প্রথম আলো ট্রাস্টের অদ্বিতীয়া বৃত্তিপ্রাপ্ত অরনীকা জামান আঁখি বর্তমানে জার্মানিতে আছেন।

নিজের শিক্ষকতা পেশা নিয়ে আঁখি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা শেষ করেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার, কারণ পরিবারকে দেখাশোনা করতে হবে। প্রথমে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও পরে মনে হলো নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ পেলে সেখানে করাটাই শ্রেয়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই সুযোগ পেয়েছি এবং শিক্ষকতা দারুণভাবে উপভোগ করছিলাম।’

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে এবার আঁখি পাড়ি জমিয়েছেন আরও বড় পরিসরে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জার্মানি গেছেন। বর্তমানে তিনি জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ বন ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত।

ময়মনসিংহের কিসমত গ্রামের এক সাধারণ একটি পরিবার থেকে শুরু হওয়া আঁখির এই যাত্রা প্রমাণ করে—অভাব কখনোই মেধার অন্তরায় হতে পারে না; কেবল প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছা এবং সঠিক সুযোগ।

সূত্র: প্রথম আলো