|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আজ হাইপারহাইড্রোসিস সচেতনতা দিবস, কখন বুঝবেন অতিরিক্ত ঘাম দুশ্চিন্তার কারণ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
২৪৫ পঠিত
আজ হাইপারহাইড্রোসিস সচেতনতা দিবস, কখন বুঝবেন অতিরিক্ত ঘাম দুশ্চিন্তার কারণ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
৩ নভেম্বর হাইপারহাইড্রোসিস সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক, অতিরিক্ত ঘামের কারণ, লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩ নভেম্বর হাইপারহাইড্রোসিস সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক, অতিরিক্ত ঘামের কারণ, লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘাম হওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গরমে, ব্যায়াম করলে কিংবা মানসিক চাপে ঘাম হওয়াই স্বাভাবিক। ঘামের মাধ্যমে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আবহাওয়া ঠান্ডা, শরীর বিশ্রামে, তবু ঘাম থামছে না! হাতের তালু, পায়ের পাতা কিংবা বগল সব সময় ভিজে থাকছে। এমনকি ঘামের কারণে দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা হচ্ছে। তাহলে বিষয়টি আর সাধারণ ঘাম হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে হাইপারহাইড্রোসিস।

হাতের তালু, পায়ের পাতা কিংবা বগল সব সময় ভিজে থাকে এমন হলে

আজ ৩ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে হাইপারহাইড্রোসিস সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক, অতিরিক্ত ঘামের কারণ, লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হাইপারহাইড্রোসিস কী

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য যতটুকু ঘাম প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি ঘাম তৈরি হলে তাকে হাইপারহাইড্রোসিস বলে। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ব্যায়াম না করেও, গরম অনুভব না করলেও কিংবা মানসিক চাপে না থাকলেও অতিরিক্ত ঘামতে পারেন।
সাধারণত হাতের তালু, পায়ের পাতা, বগল ও মুখে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে কারও কারও শরীরের বড় অংশজুড়েও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
হাইপারহাইড্রোসিস প্রধানত দুই ধরনের।

প্রাইমারি হাইপারহাইড্রোসিস

এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাধারণত অন্য কোনো রোগের কারণে এই সমস্যা হয় না। ঘামগ্রন্থি সক্রিয় করার জন্য দায়ী স্নায়ুগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। শৈশব বা কৈশোরে এ সমস্যা শুরু হতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই সমস্যা থাকার প্রবণতা দেখা যায়।

ব্যায়াম না করেও, গরম অনুভব না করলেও কিংবা মানসিক চাপে না থাকলেও অতিরিক্ত ঘামতে পারেন অনেকে

সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস

শরীরের অন্য কোনো রোগ কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এ ধরনের অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, মেনোপজ এবং কিছু ওষুধ এর কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শরীরের বড় অংশজুড়ে ঘাম হওয়ার প্রবণতা বেশি।

যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না

মাঝেমধ্যে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই নিয়মিত অতিরিক্ত ঘাম হলে কিংবা তা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন—

১. বিশ্রামেও ঘাম:কোনো শারীরিক পরিশ্রম করছেন না, ঘরও ঠান্ডা; তবু শরীর থেকে প্রচুর ঘাম হচ্ছে।

২.হাত-পা সব সময় ভেজা:হাতের তালু, পায়ের পাতা কিংবা বগলে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে। ব্যায়াম ছাড়াই মোজা ভিজে যাচ্ছে।

৩. দৈনন্দিন কাজে সমস্যা: ঘামের কারণে কলম ধরতে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে, কারও সঙ্গে হাত মেলাতে কিংবা পছন্দের পোশাক পরতে অসুবিধা হচ্ছে।

৪. রাতে অতিরিক্ত ঘাম: ঘর ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও রাতে ঘুম ভেঙে দেখছেন পোশাক কিংবা বিছানার চাদর ঘামে ভিজে গেছে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘর ঠান্ডা; তবু শরীর থেকে প্রচুর ঘাম হচ্ছে।

৫. হঠাৎ ঘামের ধরন বদলে যাওয়া: বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম শুরু হলে এর কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

৬. ঘামের সঙ্গে অন্য উপসর্গ:অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর কাঁপা কিংবা দীর্ঘদিন ক্লান্তি অনুভব করা অতিরিক্ত ঘামের পাশাপাশি দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।

হঠাৎ অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

কেন হয় অতিরিক্ত ঘাম?

প্রাইমারি হাইপারহাইড্রোসিসের ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রের অতিরিক্ত সক্রিয় সংকেতের কারণে ঘামগ্রন্থি উদ্দীপ্ত হয়। ফলে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রয়োজন না থাকলেও ঘাম তৈরি হতে থাকে।

শরীর ঠান্ডা রাখার প্রয়োজন না থাকলেও ঘাম তৈরি হতে থাকে এই রোগে

অন্যদিকে, সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিসের পেছনে থাকতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, সংক্রমণ, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা মেনোপজ। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। উদ্বেগ ও মানসিক চাপের কারণেও ঘাম বাড়তে পারে।

চিকিৎসা আছে কি?

হাইপারহাইড্রোসিস অস্বস্তিকর হলেও এর চিকিৎসা রয়েছে। সমস্যা কতটা গুরুতর এবং শরীরের কোন অংশে বেশি ঘাম হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করেন চিকিৎসক।

বোটক্স ইনজেকশন ঘামগ্রন্থি সক্রিয় করার জন্য দায়ী স্নায়ুর সংকেত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে সাহায্য করে

অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত বিশেষ অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করতে বলা হতে পারে। এটি সাময়িকভাবে ঘামগ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ করে ঘাম কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া আয়োন্টোফোরেসিস নামে একটি পদ্ধতিতে মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে ঘাম কমানোর চেষ্টা করা হয়। বোটক্স ইনজেকশন ঘামগ্রন্থি সক্রিয় করার জন্য দায়ী স্নায়ুর সংকেত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধও দেওয়া হয়। অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে গুরুতর সমস্যায় অস্ত্রোপচারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হলে, তা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে বুঝতে পারবেন, এটি প্রাইমারি হাইপারহাইড্রোসিস, নাকি অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত ঘাম মানেই শুধু গরমে অস্বস্তি নয়। কখনো কখনো এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার সংকেতও হতে পারে। তাই বিষয়টিকে লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে আড়াল না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: হেলথলাইন

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

সূত্র: প্রথম আলো