|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এআইয়ের সহায়তায় লেখা গবেষণাপত্রের মালিক কে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ এএম
১৮১ পঠিত
এআইয়ের সহায়তায় লেখা গবেষণাপত্রের মালিক কে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
এআই দিয়ে তৈরি গবেষণাপত্রের জন্য অন্তত একজন মানুষ সার্টিফায়িং অথর বা প্রত্যয়নকারী লেখক হিসেবে কাজ করতে পারেন, যিনি চূড়ান্ত ফলাফল যাচাই ও নিশ্চিত করবেন।

বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, ই–মেইল থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র ও পত্রিকার কলাম লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে অনেক এআই মডেল মানুষের লেখার মতোই সাবলীলভাবে লিখতে পারায় এআইয়ের সহায়তায় লেখা গবেষণাপত্রের দায়বদ্ধতা ও স্বত্বাধিকার নির্ধারণের নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গত মাসে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই দীর্ঘদিনের জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে শত শত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। গবেষণাপত্রগুলোতে কোনো মানুষের নাম না দিয়ে এআইকে একক লেখক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে একাধিক গবেষক ও গণিতবিদ জানিয়েছেন, তাঁরা গবেষণাপত্রগুলোর অনেক প্রমাণ বুঝতে পারেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেসের বায়োএথিসিস্ট ডেভিড রেসনিক বলেন, ‘আমরা যদি কোনো কিছু না বুঝি, তবে নৈতিক দিক থেকে আমরা তার দায়ভার নিতে পারি না।’

বর্তমানে একাডেমিক জার্নাল এবং প্রি–প্রিন্ট সার্ভারে এআইকে লেখক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব মেডিক্যাল জার্নাল এডিটরসের নির্দেশনা অনুযায়ী একজন লেখককে অবশ্যই গবেষণার পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং লেখা যাচাইয়ের দায়িত্ব নিতে হবে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের বায়োএথিসিস্ট ব্রায়ান আরপ বলেন, ‘এআই যুগের কারণে আমাদের লেখকত্বের সংজ্ঞা ও ধারণাগত পরিধি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। এআই দিয়ে তৈরি গবেষণাপত্রের জন্য অন্তত একজন মানুষ সার্টিফায়িং অথর বা প্রত্যয়নকারী লেখক হিসেবে কাজ করতে পারেন, যিনি চূড়ান্ত ফলাফল যাচাই ও নিশ্চিত করবেন।

আইসিএমজেই নীতিমালার ভিত্তিতে বায়োএথিসিস্ট ডেভিড রেসনিক জানান, মানুষ যদি এআইয়ের কাজ বুঝতে না পারে, তবে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশ করা উচিত নয়। একজন দায়িত্বশীল বিজ্ঞানী হিসেবে এআই কী করছে তা ধাপে ধাপে তদারকি করা অত্যন্ত জরুরি।

পিএলওএস সাময়িকীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভেরোনিক কিয়ারমার জানান, গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে কেবল বানান বা ভাষা সংশোধনের মতো সাধারণ ক্ষেত্রে প্রকাশ বাধ্যবাধকতা করা হলে তা অর্থহীন কাজে পরিণত হয়।

প্রকাশিত গবেষণাপত্রের জন্য কোনো একাডেমিক কৃতিত্ব দাবি করছে না ওপেনএআই। এআইয়ের তৈরি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা ও বোঝার জন্য বিজ্ঞানীদের কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: সায়েন্স ডটঅর্গ

সূত্র: প্রথম আলো