|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশ হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
৩১৩ পঠিত
এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশ হতে হবে: রাষ্ট্রপতি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

বাসস জানায়, সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার নয়, বরং সক্রিয় অংশীদার হওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে—এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিকে পরিণত হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে দেশের তরুণসমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

* দিনব্যাপী এই সামিটে ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা নিজেদের উদ্ভাবিত পণ্য প্রদর্শন করেন।* উদ্বোধনী পর্ব শেষে আয়োজন করা হয় এআই–বিষয়ক পৃথক তিনটি কর্ম অধিবেশন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বে দেশকে একটি পরিচিতি দিয়েছে। একইভাবে দেশের তরুণেরা যদি যথাযথ সক্ষমতা নিয়ে এআই–প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারাই বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার সম্ভাবনা রাখে।

এর আগে সম্মেলন আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমসের সিইও অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

তিনটি কর্ম অধিবেশন

এদিকে ঢাকা চেম্বারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিষয়ভিত্তিক তিনটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তর মোকাবিলা: প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’বিষয়ক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি পরিবর্তনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ব্যবসা পরিচালনা, শিল্প উৎপাদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অপর এক অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অসংখ্য মেধাবী তরুণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি বিনিয়োগও করেছেন। তাই সরকার দেশে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল দেশে আনা সম্ভব হয়।

একই অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এআইভিত্তিক সেবা চালু করতে পারে, যা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

অধিবেশনে ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান বলেন, শিল্প খাতের উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

তৃতীয় কর্ম অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্থানীয়ভাবে তৈরি এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সম্প্রসারণে কূটনৈতিক আলোচনা ও বৈশ্বিক অংশীদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সামিটের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. সবুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সিইও রাইসুল কবির, মার্কপোলোর সিইও তাসফিয়া তাসবীন, পাঠাওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাহিনুর রহমান ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থী তৌসিফা ইসলাম প্রমুখ।

সামিটে এআইভিত্তিক দেড় শতাধিক স্টলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেন। সেই সঙ্গে দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্ভাবিত পণ্যের প্রদর্শন করেন।

সূত্র: প্রথম আলো