গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে ভোগান্তিতে পড়বেন চট্টগ্রামের দেড় লাখ গ্রাহক
গণমাধ্যম ডেক্স
শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, আর নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়তি চাহিদার কারণে চারদিন গ্যাসের স্বল্পচাপ ভোগান্তি পোহাতে হবে গ্রাহকদের। এমন পরিস্থিতির মুখে ভোগান্তিতে পড়বেন চট্টগ্রামের দেড় লাখ গ্রাহক।
সোমবার (২ নভেম্বর) কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কেজিডিসিএলের অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের সম্মুখীন হবেন। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
কেজিডিসিএলের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে তাদের মোট গ্রাহক ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ারের গ্রাহক ২০৪টি এবং শিল্পগ্রাহক ৯৬২টি। বাকি গ্রাহক বিদ্যুৎ, সার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতের। ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে শুধু বাসাবাড়ির রান্নাবান্না নয়, উৎপাদনমুখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়তে পারে।
বিশেষ করে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ক্যাপটিভ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি উদ্বেগের। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কারখানার উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও বিদ্যুৎ উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহকদেরও দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ বিপুল চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে।
পেট্রোবাংলার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৯২ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনালে নির্ধারিত সময়ে এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে টানা চার দিন কমবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে পাওয়া গ্যাসের সরবরাহ। এতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) অধিভুক্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহককে স্বল্পচাপের সমস্যায় পড়তে হবে।
আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে রি-গ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাবে। এর প্রভাব পড়বে চট্টগ্রামের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতসহ গ্যাস ব্যবহারকারী সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এলএনজি টার্মিনালগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি করা এলএনজি এসব টার্মিনালে প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাসে রূপান্তরের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ সমন্বয় করা না গেলে গ্রাহক পর্যায়ে চাপ কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
চার দিনের এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষে শনিবার বিকেল থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: কালবেলা