|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

তারেক রহমানের জাপান সফর: বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
১৬৬ পঠিত
তারেক রহমানের জাপান সফর: বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হলো ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে জাপানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পরদিন, ১১ ফেব্রুয়ারি, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও সুসংহত হয়। তিনি ১৯৭৮ সালের এপ্রিল এবং ১৯৮০ সালের ৮ জুলাই জাপান সফর করেন।

তাঁর সময়েই বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে জাপান সফর করেন।

বিশেষ করে ২০০৫ সালে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

খালেদা জিয়া জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে ঢাকায় মেট্রোরেল ও ভূগর্ভস্থ গণপরিবহনব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সহযোগিতা চান।

পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নেও তিনি জাপানের সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

২০০৫ সালের সফরের আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা হলো টোকিওতে বাংলাদেশের শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় জাপানের মাটিতে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের গুরুত্ব বুঝতে হলে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার সংকুচিত করা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও লুটপাট, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা যথাযথভাবে রক্ষা করা যায়নি।

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্বলতার প্রভাব বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি খণ, আর্থিক অনিয়ম, সীমাহীন অর্থ পাচার, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ভীষণভাবে চাপে ফেলেছে।

দেশের বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়, বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যায় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়।

এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে।

এর দেড় বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান এই জটিল ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই পরিস্থিতিতে তাঁর সরকারকে একদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলাও জরুরি।

একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রাতারাতি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সুশাসন, কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ।

এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।

এখানে জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত জনগণের ধৈর্য ধারণ করা এবং সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

সরকারেরও দায়িত্ব হবে জনগণের কাছে সংস্কারের উদ্দেশ্য ও অগ্রগতি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

জাপান সফরের আগে তাঁর মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সফরও এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ।

২০২৬ সালের ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়।

২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির নাগোয়ায় অবস্থিত টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাপানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কাজে লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বিশেষ করে, মাতারবাড়ী–মহেশখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং গভীর সমুদ্রবন্দর-সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপানের সহযোগিতা আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হলো ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি উদ্যোগ।

এর লক্ষ্য বাংলাদেশের শিল্পায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে এই উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

জাপান সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি খাতে জাপানের অর্থায়ন এবং বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, জাপানের সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ তারই বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প খাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগ গুরুতৃপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

সফরকালে সরকারি পর্যায়ে ঋণ, অনুদান ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে।

জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, জাপানের সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ তারই বাস্তব প্রতিফলন।

বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প খাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগ গুরুতৃপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তি ও শিল্পোন্নত দেশ। উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা, গুণগত মান, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি প্রযুক্তিতে দেশটির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

সফরকালে জ্বালানি খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘জেরা’-এর কার্যক্রম ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়।

একইভাবে লজিস্টিকস ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় নিটসু এবং গাড়ি উৎপাদন খাতে টয়োটার মতো প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিল্প ও পরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং জাপানি বিনিয়োগের সমন্বয় প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ-সংক্রান্ত উদ্যোগ।

এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য রপ্তানিপণ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

অন্যদিকে জাপান থেকে বাংলাদেশ যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, প্রযুক্তি ও উচ্চ মূল্যের পণ্য আমদানি করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্য আনাও জরুরি।

ইপিএ কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য জাপানের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্র আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে জাপানের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশে জাপানি বিনিয়োগনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসে তিন প্রজন্মের নেতৃত্বের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক রূপ লাভ করে।

সেই সম্পর্ককে বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর।

বর্তমান বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি, শিল্প ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে কেবল সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতির মধ্যেই এই সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে উন্নয়নের সুফল দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়।

সঠিক নীতিনির্ধারণ, দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার জাপানের সঙ্গে সৃষ্ট এই নতুন সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তিতে পরিণত করতে পারবে—এমন প্রত্যাশা করা যায়।

তিন প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর ও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ নেবে এবং দুই দেশের জনগণের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে—এটাই প্রত্যাশা।

  • আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

* মতামত লেখকের নিজস্ব

সূত্র: প্রথম আলো