|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদ ছাড়ার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের নাকচ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৫ এএম
৩৪৮ পঠিত
নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদ ছাড়ার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের নাকচ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। হেগসেথ ও রুবিওর পদ ছাড়ার খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দায়িত্ব ছাড়তে পারেন—এমন খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের জন্য এই যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর দাবিও উঠেছে।

একজন বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের ওপর ভোট আয়োজনের হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ভিডিও বিবৃতিতে নিজের ভূমিকার পক্ষে কথা বলেছেন হেগসেথ। একই সঙ্গে অভিশংসনের উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

হেগসেথ বলেন, ‘দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করছে। তারা আমাদের আক্রমণ করছে, কারণ আমরা কার্যকর। এতে কোনো কাজ হবে না। আমরা পিছু হটব না।’

অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন—এমন খবরও অস্বীকার করেছেন তিনি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কাজ করাই সব সময় তাঁর পরিকল্পনা ছিল।

রুবিও বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর তাঁরা যখন বলেন, তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যাবেন, তখন আমি সব সময় হাসি। আমি বলি, “কোন চাকরিটা?”’

এ সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর রুবিও পদ ছাড়তে পারেন—এমন খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। উভয় পক্ষই এসব খবরকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি।

ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স—দুজনই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এ পরাজয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

এবিসি নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেগসেথকে নিয়ে তিনি ‘কিছু ফোন পেয়েছেন’। তবে তাঁকে দায়িত্বে রাখার ‘পূর্ণ ইচ্ছা’ তাঁর আছে।

পরে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’

এ সময় হেগসেথের কয়েকটি সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধ এখন নবম মাসে গড়িয়েছে।

তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল জানিয়েছে, ট্রাম্প জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিংবা সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন। আট মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এদিকে ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচক রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসনের প্রস্তাব তিনি উত্থাপন করবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি বলেছেন, জানুয়ারিতে নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্পের উচিত হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া।

ম্যাসি লিখেছেন, ‘সিনেটে উত্তরসূরিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা অবস্থাতেই তাঁর (ট্রাম্পের) এটি করা উচিত।’

এ ছাড়া টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি শূন্য সিনেট আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে হেগসেথের, এমন গুঞ্জনও আছে।

ভিডিও বিবৃতিতে নিজের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগকে ‘ভুয়া অভিশংসন প্রস্তাব’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন হেগসেথ। তিনি এ উদ্যোগের পেছনে ‘একজন অসন্তুষ্ট, পরাজিত কংগ্রেস সদস্য এবং তাঁর সব ডেমোক্র্যাট মিত্র’ সম্পৃক্ত আছেন বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগ কীভাবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে, তার বিবরণ দিয়েছেন।

হেগসেথ বলেন, তাঁর নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বেড়েছে, প্রতিরক্ষাশিল্পের ভিত্তি পুনর্গঠনের কাজ হয়েছে এবং বৈচিত্র্যবিষয়ক উদ্যোগগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে হেগসেথ বলেন, ‘তাদের নীতিগুলো কাজ করে না। তাই ক্ষমতার প্রদর্শনীর আড়ালে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করার প্রতি তাদের আসক্তি প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টায় ঠেলে দেয়। এসবই ব্যক্তিগতভাবে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার রাজনীতি।’

সূত্র: প্রথম আলো