বিপ্লব আপনারা কবে করেছেন, কোন বিপ্লবে ছিলেন: জামায়াতকে রিজভী
গণমাধ্যম ডেক্স
জামায়াতে ইসলামীকে সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছেন, আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে। কোন বিপ্লব এটা দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র ৮-৯ মাস হলো একটি সরকারের বয়স, অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা কথা আপনারা বলার চেষ্টা করছেন। বিপ্লব আপনারা কবে করেছেন? কোন বিপ্লবে আপনারা ছিলেন?’
আজ সোমবার বেলা আড়াইটায় নগরের দরগাগেট এলাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। সিলেট জেলা বিএনপি এই সভা আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
পরিকল্পিতভাবে কেউ কেউ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একদিকে পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছে; পাশাপাশি দেশের ভেতরে কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উসকানি দেখছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভে পরাজিত শক্তির ইন্ধন আছে। তারা যে দেশকে অস্থিতিশীল করে, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখানে (শ্রমিক বিক্ষোভ) আরও কেউ মদদ দিচ্ছে কি না, এটা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। লংমার্চের মাধ্যমে নানা ধরনের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে প্রকারান্তরে তাঁরাও শ্রমিকদের সমর্থন দিচ্ছেন কি না, সেটা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
জামায়াতের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, ‘সবাই বলে আপনারা গুপ্ত। কীভাবে গুপ্ত ছিলেন? ছাত্রলীগের মধ্যে আপনারা মিশে ছিলেন, যুবলীগের মধ্যে মিশে ছিলেন। এই কারণে আপনাদের গুপ্ত বলে। কিন্তু বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। একটি নীতি ও আদর্শের জন্য লড়াই করেছে ১৭ বছর।’
বক্তব্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জনপ্রিয় নেতাদের নির্বাচন করে সমর্থন দেবে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরহাদ হালিম (ডোনার), কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য এম এ মালিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
এদিকে সকালে নগরের টিলাগড় এলাকায় ২০০৬ সালের ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা ও এম এ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃষির সমন্বিত নীতিই টেকসই সমৃদ্ধির পথ। পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, কৃষিজমি রক্ষা ও কৃষকের সরাসরি সহায়তায় গড়ে উঠতে পারে টেকসই কৃষি বিপ্লব। একটি সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হতে পারে।
উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকার শিক্ষাঋণ চালু করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শিক্ষাঋণের মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। টেকসই কৃষি বিপ্লব সম্ভব, যদি কৃষিজমি রক্ষা, পতিত জমির সঠিক ব্যবহার, কৃষকের সরাসরি সহায়তা এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা একসঙ্গে এগোয়। বিএনপি সরকার সেটাই করবে।
সবশেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়। এ ছাড়া দিনভর আয়োজনে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা, কেক কাটাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো