|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

মিশ্র সবজি চাষে আশার আলো

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ এএম
৩৫২ পঠিত
মিশ্র সবজি চাষে আশার আলো
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কুড়িগ্রামের চিলমারীর কৃষকরা মিশ্র ফসল চাষে বা রিলে ক্রপ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চাহিদা বৃদ্ধি এবং লাভজনক হওয়ায় জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে লালশাক, সরষেশাক, মুলা, বেগুন, টমেটো, শিম, কুমড়া, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন শাকসবজি। একই জমিতে দুই ধরনের লাভবান ফসল পেয়ে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। নিজেদের পর...
কুড়িগ্রামের চিলমারীর কৃষকরা মিশ্র ফসল চাষে বা রিলে ক্রপ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চাহিদা বৃদ্ধি এবং লাভজনক হওয়ায় জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে লালশাক, সরষেশাক, মুলা, বেগুন, টমেটো, শিম, কুমড়া, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন শাকসবজি। একই জমিতে দুই ধরনের লাভবান ফসল পেয়ে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিষমুক্ত এসব তাজা শাকসবজি বাজারে বিক্রি করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন তারা। সরেজমিন উপজেলা রমনা মডেল ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মিশ্র সবজি চাষের জমিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। একই জমিতে কেউ লাগিয়েছেন লালশাক, মুলার শাক; কেউবা ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনিয়া, শিম, কুমড়া। অনেকেই তাদের উৎপাদিত শাক বাজারের বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। আবার অনেকে শাকসবজির পরিচর্যার কাজ করছেন। কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য পুঁজিতে তিনি লালশাক ও মুলাশাক চাষ করেছেন। চৈত্র মাসের দিকে লাগানো এ প্রথম আবাদের শাক তোলার উপযোগী হয়েছে। একই ক্ষেতে একাধিক সবজি হওয়ায় ফলনও ভালো পাওয়া যায়। এবার ভালো দাম পাব বলে আশা করি। আরেক কৃষক রহমুদ্দি বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে যে লাভ হয়, তার চেয়ে শাক চাষে অনেক বেশি লাভ পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছি। শীতের সময়ে এই আবাদ আরও ভালো হয়। চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় এ বছর মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২০ হেক্টর। এরই মধ্যে প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ হয়েছে। মিশ্রচাষ করলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে এবং ফলন বাড়ে। এসময়ে টমেটো গাছের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় খুব দ্রুত বর্ধনশীল শাক বা মুলা চাষ করা যায়। বাঁধাকপি বা ফুলকপির চারা লাগানোর পর মাঠের ফাঁকা মাটিতে ধনেপাতা বা লালশাক ছড়িয়ে দিলে বাড়তি আয় হয়। ধনেপাতার উগ্র গন্ধ অনেক ক্ষতিকারক পোকাকে দূরে রাখে।  তিনি আরও বলেন, বেগুন একটি সোজা ও শক্ত গাছ, অন্যদিকে করলা বা শসা লতাজাতীয় ফসল। বেগুনক্ষেতের আইলে বা মাচা তৈরি করে নিচে বেগুন এবং ওপরে করলা বা শসা চাষ করা যায়। এতে একই জমি থেকে দুই ধরনের ফসল পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, লাউ বা মিষ্টি কুমড়ার মাচার নিচের জমিতে পেঁয়াজ বা রসুন লাগালে মাটির নিচের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে। ভুট্টার শক্ত গাছগুলো লতাজাতীয় বরবটি বা শিমের জন্য প্রাকৃতিক মাচার কাজ করে। আবার শিমজাতীয় গাছ মাটি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ভুট্টার পুষ্টি জোগায়। তিনি বলেন, সবজির জমিতে পোকা খাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সাইপারমেথ্রিন, ক্লোরোপাইরিফস বা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া যারা এখনো জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন, তারা জমি চাষের পূর্বে জৈব সারের সঙ্গে ট্রাইকোডার্মা পাউডার মিশিয়ে রাখতে হবে। এরপর জমির শেষ চাষে ওই জৈব সার ব্যবহার করলে পচন প্রতিরোধ হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স