|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সন্তান প্রসবের পরই মৃত্যু, তবুও ৭ ঘণ্টা স্যালাইন লাগিয়ে রাখার অভিযোগ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
৩৪৬ পঠিত
সন্তান প্রসবের পরই মৃত্যু, তবুও ৭ ঘণ্টা স্যালাইন লাগিয়ে রাখার অভিযোগ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
লালমনিরহাটে সন্তান প্রসবের পর আদরি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে নিউ অতিথি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের প্রায় এক ঘণ্টা পরই আদরির মৃত্যু হলেও তাকে জীবিত বলে আশ্বস্ত করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা তার শরীরে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়। পরে বিষয়টি জানাজান...

লালমনিরহাটে সন্তান প্রসবের পর আদরি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে নিউ অতিথি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের প্রায় এক ঘণ্টা পরই আদরির মৃত্যু হলেও তাকে জীবিত বলে আশ্বস্ত করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা তার শরীরে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শুরু হয় দেনদরবার।

সোমবার (২ নভেম্বর) জেলা শহরের বাহাদুর মোড় এলাকার ওই ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে কাগজপত্র হালনাগাদ না পাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসববেদনা শুরু হলে গত শনিবার আদরিকে আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশহর এলাকা থেকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে ক্লিনিকের এক দালাল তাকে নিউ অতিথি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

স্বজনদের দাবি, সোমবার সকালে অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও রোববার রাত একটার দিকে তাদের না জানিয়েই অস্ত্রোপচার করা হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর আদরির মৃত্যু হয়। কিন্তু পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত তাকে জীবিত বলে জানানো হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীর শরীরে কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

নিহত আদরির মা নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তারা চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকে পাননি। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়েও তারা চলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। আদরির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক এসএম আলী। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ক্লিনিকের মালিক ও লালমনিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নিয়ম মেনেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও স্বজনেরা তা করেননি।

সদর থানার উপপরিদর্শক তুষার কান্তি জানান, ঘটনার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন আব্দুল হাকিম বলেন, জেলায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অভিযান চলছে। মঙ্গলবার অভিযানে কাগজপত্র হালনাগাদ না পাওয়ায় নিউ অতিথি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স