সাহেববাড়ির শাপলাবাগান, লাল শাপলায় রঙিন প্রকৃতি
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম
হাজারো লাল শাপলার উপস্থিতিতে প্রতিনিয়তই রঙিন প্রজাপতি আর ভ্রমরের ওড়াউড়ি ভিন্ন এক সৌন্দর্য তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রকৃতির পাখিরাও লুকোচুরি খেলা করে মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। সূর্যোদয়ের আলোকচ্ছ ছড়িয়ে পড়ামাত্রই যেন মন উদাস করা এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয় পূর্ব চরমনসা গ্রামের ‘সাহেববাড়ির শা...
হাজারো লাল শাপলার উপস্থিতিতে প্রতিনিয়তই রঙিন প্রজাপতি আর ভ্রমরের ওড়াউড়ি ভিন্ন এক সৌন্দর্য তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রকৃতির পাখিরাও লুকোচুরি খেলা করে মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। সূর্যোদয়ের আলোকচ্ছ ছড়িয়ে পড়ামাত্রই যেন মন উদাস করা এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয় পূর্ব চরমনসা গ্রামের ‘সাহেববাড়ির শাপলাবাগান’। সেই দৃশ্য অবলোকনে দর্শনার্থীদের সঙ্গে প্রকৃতিও যেন অপার আনন্দে মেতে ওঠে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চর মনসা গ্রামে ‘সাহেববাড়ির শাপলাবাগানের’ অবস্থান। ভোরের আলো ফুটতেই বাগানজুড়ে ফুটে ওঠে হাজারো লাল শাপলা। পাপড়ি মেলে থাকা এসব শাপলা প্রকৃতিকে করে তোলে আরও রঙিন ও নয়নাভিরাম। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
ভবানীগঞ্জ-কুশাখালী-নোয়াখালী সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাগানটি স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন সেখানে।
জানা গেছে, ২০২০ সালে নিজের ১৪৩ শতাংশ জমি কেটে পরিকল্পিতভাবে শাপলা রোপণ করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও প্রকৃতিপ্রেমী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। বরিশালের উজিরপুর থেকে লাল শাপলার কন্দ এনে সেখানে রোপণ করেন তিনি। কোনো ধরনের বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াই সবুজ প্রকৃতি ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা বাগানটি নিয়মিত পরিচর্যার ফলে এখন হাজারো লাল শাপলায় ভরে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইস্রাফিল বলেন, এ শাপলা বাগানটি এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রতিদিন সকালেই এখানে অনেক নারী-পুরুষ আসেন। আশপাশে এমন সুন্দর পরিবেশ আর কোথাও না থাকায় মানুষ এখানে এসে সময় কাটান। এ উদ্যোগের পেছনে যার অবদান, তিনি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। নিজের জায়গায় স্ব-উদ্যোগে তিনি কাজটি করেছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই।
লক্ষ্মীপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী মিম বলেন, অনেকের কাছ থেকে এ বাগানটির কথা শুনেছি। আজ পরিবারের সঙ্গে দেখতে এসেছি। খুব সুন্দর। বাগানটি বেশ উপভোগ করেছি।
কলেজ শিক্ষার্থী মো. ফুহাদ হাসান বলেন, বাগানটি প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন। তবে কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে ফেলছেন, যা ঠিক নয়। এতে বাগানটি তার সৌন্দর্য হারাবে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হবে।
শাপলা বাগানের উদ্যোক্তা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শখ থেকেই বাগানটি করেছি। আমার উদ্যোগে অন্যদেরও ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে, এতে আমি খুশি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী করেছি। অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সামর্থ্যের ব্যাপার আছে। আমাদের এদিকে দেখার মতো তেমন কিছু নেই। শাপলা বাগানটি এখন অনেকের ভালো লাগার জায়গা, আমারও ভালো লাগে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স