হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১২ নভেম্বর
গণমাধ্যম ডেক্স
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানির তারিখ আবারও পিছিয়েছে।
এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ নভেম্বর।
রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার এক আসামি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, মামলার আসামি সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারা কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। আদালত শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই দিন আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে ১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। রোববার মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় উঠলেও এক আসামির অসুস্থতার কারণে তা আবারও পিছিয়ে যায়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আবদুর রাজ্জাক, দীপু মনি ও হাসানুল হক ইনু; সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
অন্যদিকে, এ মামলার ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ওরফে এস এম জাহিদ এবং ইমরান এইচ সরকার।
পলাতক আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ; র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান এবং বিএম ফরমান আলী।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশে অভিযান চালানো হয়। তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরাও ওই অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত ঘটনা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভূমিকা রাখেন। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হেফাজতের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয় বলে দাবি প্রসিকিউশনের।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। সংগঠনটির নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে আসামির সংখ্যা ছিল ২১। তবে তদন্ত শেষে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স