গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

ইনানীতে নলকূপের গ্যাসের আগুন এখনও জ্বলছে

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইনানীতে নলকূপের গ্যাসের আগুন এখনও জ্বলছে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে সৃষ্ট আগুন দুই দিনেও নেভেনি। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত অবিরাম জ্বলছে আগুন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও করণীয় নির্ধারণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি বিশেষজ্ঞ দল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী গ্রামের ছোট ইনানী এলাকায় একটি বসতবাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য পাইপ বসানোর সময় উচ্চ চাপে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও সেনাবাহিনীর একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালালেও ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলের চারপাশে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে। এ ছাড়া আগুনের শিখা কাছাকাছি থাকা ৩৩ কেভি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বের হচ্ছে, সেই স্তরের গ্যাস নিঃশেষ হয়ে গেলে আগুন স্বাভাবিকভাবেই নিভে যেতে পারে। এর আগে জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও জানান, আগুন পুরোপুরি নিভে না যাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলের চারপাশে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। ওই এলাকায় বসতি ও জনসমাগম রাখা যাবে না। আগুন নিভে যাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, বাপেক্সের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নমুনা পরীক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।