গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

চুয়েটে ৩৫ দিন পর শুরু পাঠদান, তবে কাটেনি অনিশ্চয়তা

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
চুয়েটে ৩৫ দিন পর শুরু পাঠদান, তবে কাটেনি অনিশ্চয়তা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দীর্ঘ ৩৫ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৬ সদস্যের পরামর্শক কমিটি। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো চুয়েটে অস্থিরতা চলছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে চুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ক্লাসের মধ্য দিয়ে পাঠদান শুরু হয়। ক্লাস চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পর্যায়ক্রমে সব বিভাগ ও বর্ষের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

তবে ক্লাসে ফিরলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও প্রশাসনিক বিরোধের সমাধান এখনো হয়নি।

সংকট সমাধানে ইউজিসির ৬ সদস্যের কমিটি

চুয়েটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গঠিত ইউজিসির ৬ সদস্যের পরামর্শক কমিটি বুধবার শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রথমে শিক্ষকদের বক্তব্য শোনেন কমিটির সদস্যরা। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। বিকেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি করা হয়। তারা সংকটের প্রেক্ষাপট, আন্দোলনের কারণ এবং নিজেদের অবস্থান কমিটির কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দ্রুত সংকট নিরসনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বৈঠক শেষে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষকদের বক্তব্য কমিটির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। লিখিত নথিপত্র দেওয়ার পাশাপাশি মৌখিকভাবেও অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, কমিটি শিক্ষকদের বক্তব্য শুনেছে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল জানান, শুরু থেকেই তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আন্দোলন করছেন। বৈঠকে কমিটির কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

মতবিনিময় শেষে কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতে এই পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।’

সব পক্ষের বক্তব্য ও মতামত পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ব্যাহত হয়।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।