‘দেশবাসী আপনারা সবাই দেখেন, সব *** চোর। এই চোরের কারণে আজ লাশ পিকআপে নিয়ে যাচ্ছি। আপনারা সবাই শেয়ার করবেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে যেন আজ লাশ পিকআপে নিয়ে যাচ্ছি। ওদের স্বার্থের জন্য ওরা সিন্ডিকেট করছে, কোনো লাশ যেতে দিবে না’- এভাবেই রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় স্বজন হারানো এক ব্যক্তিকে।
স্বজনের মৃত্যুর পর বহু ছোটাছুটি করেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পরও অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় পিকআপ এনে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষোভ উগড়ে দেন ওই ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী কে এবং তার কোন স্বজন মারা গেছেন, তা সরাসরি কথা বলতে না পারায় নিশ্চিত হতে পারেনি কালবেলা। তবে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢামেকে পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা দিনব্যাপী ধর্মঘট পালন করেন। এতে বিপাকে পড়েন ঢাকা ও দেশের নানাপ্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষজন।
জানা গেছে, সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট, কলেজ গেট, নতুন ভবনসহ আশপাশের এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকেরা রোগী পরিবহন করেননি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধর্মঘটে অংশ নেওয়া মালিক সমিতির অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশই করতে পারেনি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকেও তেমন রোগী পরিবহন করতে দেখা যায়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলো।
লাশ বাড়িতে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেককে পিকআপ ভ্যান, রিকশা, ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবস্থাও করতেও দেখা যায়।
ঢামেক হাসপাতালের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলে পুলিশের সার্জেন্ট মামলা দেয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা করতে তারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢামেক হাসপাতাল থেকে তাদের সব অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তিনি।
সারাদিনের ভোগান্তির সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোগীদের একরকম জিম্মি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলেও তাদের নেওয়া হয়নি। পরে শাহবাগ থানাকে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর বাইরের যেকোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করে রোগী নিতে পারবে বলে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে সারাদিন রোগী ও স্বজনদের বড় ধরনের ভোগান্তি হয়েছে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স