প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৩০ এএম || প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
ভারতের পূর্ব উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের এক দিন পার হয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো, ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং গাছ ও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার কারণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড় অর্ণবকে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে ঝড়টি।
এতে রাজ্যটিতে অন্তত ১৫ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলা ছাড়া অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেই শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে আটকে পড়া মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ বৃহস্পতিবারও উদ্ধার করা যায়নি। জাহাজটিতে ২০ নাবিক রয়েছেন। উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের আগে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা রাজ্য থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ট্রেন ও ফ্লাইটের চলাচল বাতিল করা হয়।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অর্ণব ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
সূত্র: রয়টার্স
সূত্র: কালবেলা