গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মন গলছে না চীনের

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মন গলছে না চীনের

একটি মিম নিয়ে মন্তব্য, তাতেই চটে লাল চীন। খেসারত দিতে হচ্ছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, রিয়াল মাদ্রিদ, এমনকি লা লিগাকে। ফরাসি তারকার মন্তব্যের জেরে স্পেনে লা লিগার সম্প্রচার বন্ধ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। এরই মধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এমবাপ্পে, দুঃখ প্রকাশ করেছে রিয়ালও। কিন্তু তাতেও মন গলেনি চীনের। বরং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের ব্যাখ্যায় তারা সন্তুষ্ট নয়।  

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) স্পোর্টস অ্যান্ড ইয়ুথ সেন্টারের এক মুখপাত্র রিয়াল মাদ্রিদের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমবাপ্পের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় ফেলার চেষ্টাও মানতে নারাজ চীন। তাদের মতে, ওই মন্তব্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

চীনা সম্প্রচারমাধ্যমটির বক্তব্য, ‘এমবাপ্পে কখনো কাউকে অপমান করতে চাননি’ এবং তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে—রিয়াল মাদ্রিদের এমন ব্যাখ্যা তারা গ্রহণ করছে না। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, রিয়ালের এমবাপ্পের এই মন্তব্যের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সিএমজির মুখপাত্র আরও বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ যথাযথভাবে দুঃখ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এ নিয়ে আলোচনার কিছু নেই।’

বিতর্কের সূত্রপাত এমবাপ্পের একটি সাক্ষাৎকারে। সেখানে রিয়াল ফরোয়ার্ডকে তাঁর সবচেয়ে পছন্দের মিম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি এমন একটি মিমের কথা বলেন, যেখানে তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল একজন ‘চীনা স্বৈরশাসকের’ ছবিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে চীনের সাবেক নেতা মাও সে–তুংয়ের অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছিল।

এমবাপ্পে সরাসরি মাওয়ের নাম উল্লেখ না করলেও মন্তব্যটি চীনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এরপর দেশটির তিন প্রতিষ্ঠান—দংপেং, মেংনিউ ও মিল্কগ্রাউন্ড—ফরাসি তারকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করে। চীনে লা লিগার সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এমবাপ্পে ফরাসি, চীনা ও ইংরেজি ভাষায় বিবৃতি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। চীনের জনগণ ও তাদের ইতিহাসের প্রতি ‘গভীর শ্রদ্ধা’ থাকার কথাও জানান তিনি। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। এরপর মাঠে নামে লা লিগা কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটির সভাপতি হাভিয়ের তেবাস মঙ্গলবার সিএমজিকে চিঠি দিয়ে এমবাপ্পের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং এতে চীনের মানুষ যে আঘাত পেয়েছেন, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে চীনের পক্ষ থেকে শুধু লা লিগা বা এমবাপ্পের দুঃখ প্রকাশেই সন্তুষ্ট না থেকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং লিখিত ক্ষমাপত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এরপর বুধবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি চীনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানায় এবং এমবাপ্পের আগের দুঃখ প্রকাশের প্রতিও সমর্থন জানায়।

রিয়াল মাদ্রিদের এই বিবৃতির পর চীনের সম্প্রচারমাধ্যমটি জানিয়েছে, লা লিগার মাধ্যমে তারা ক্লাবটির লিখিত ক্ষমাপত্র পেয়েছে। কিন্তু সেটি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে কি না, কিংবা বন্ধ থাকা সম্প্রচার আবার চালু হবে কি না—সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি তারা।

বরং চীনের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সিএমজির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন যেকোনো কথা বা কাজ চীনের সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়বে। এর বিপরীত কিছু ভাবার দিবাস্বপ্ন দেখা রিয়াল মাদ্রিদের বন্ধ করা উচিত।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।