ঝিনাইদহে সরকারি কলেজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক অরিত্র কুমার কুণ্ডুকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তাকে কেন কনডেম সেলে রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে রাষ্ট্রের কাছে জবাব চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আহমেদ আবু জাফর লেখেন, ‘ফাঁসির আসামিদেরই কনডেম সেলে রাখা হয়ে থাকে, সাংবাদিক অরিত্রকে কেন এখানে রাখা হচ্ছে, রাষ্ট্র জবাব চাই।’
অরিত্র কুণ্ডুর বাবা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাদক-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১০ অক্টোবর দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ডিবি পুলিশের মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন অরিত্র। এরপর মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানিয়ে ১১ অক্টোবর ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুননাহার মহিলা কলেজে যান দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডু ও বাংলা-৭১-এর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। কলেজের সীমানাপ্রাচীর ও নালা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত ৩৮ হাজার টাকার পুরোনো সরকারি ইট ও রড গায়েব হওয়ার বিষয়ে তথ্য জানতে গেলে অধ্যক্ষ বিজন কুমার সরকারের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বহিরাগত কয়েকজন তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে অবরুদ্ধ করেন এবং রড দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দুই সাংবাদিককে থানায় নেওয়া হয়।
অরিত্রের বাবার অভিযোগ, এর আগে তাকে কলেজ থেকে চলে যেতে দেওয়া হলেও পরে আবার ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়।
থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলা নম্বর ৪৭, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬। মামলাটি বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে নথিভুক্ত হয়। তবে অরিত্রের বাবার দাবি, আহত দুই সাংবাদিককে সকাল ১১টার দিকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছিল। কোনো মামলা নথিভুক্ত হওয়ার আগে তাদের থানায় নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অরিত্রের বাবা কালবেলাকে বলেন, তার ছেলে সম্প্রতি ঝিনাইদহের ডিবি পুলিশের ওসিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। এতে পুলিশ-প্রশাসনের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয় বলে তার দাবি। পরে কলেজে সংবাদ সংগ্রহের কথা বলে অরিত্রকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর পুলিশ অধ্যক্ষকে দিয়ে মামলা করায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বাদী ও কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার সরকারের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো এভাবে আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারবো না। আপনাকে সামনাসামনি আসতে হবে।’
অরিত্রের বাবার অভিযোগ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে মামলা করতে বাধ্য করেছেন এবং সাংবাদিক চাঁদা চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ তার কাছে আছে কি না, জানতে চাইলেও একই উত্তর দেন অধ্যক্ষ।
এর আগে আহমেদ আবু জাফর অভিযোগ করেন, অরিত্রের সঙ্গে গত কয়েক দিনে যা ঘটেছে, তা বাড়াবাড়ি বলে মনে হচ্ছে। ঝিনাইদহের সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অরিত্রের বিরুদ্ধে আরও কঠিন মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে তারা জানতে পেরেছেন উল্লেখ করে আহমেদ আবু জাফর বলেছিলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাংবাদিকেরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন। অরিত্রের ওপর কী কারণে এমন আচরণ করা হচ্ছে, তা জানতে ঝিনাইদহের প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স