প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচরে বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে ওঠা এসব চরাঞ্চলের বালুময় জমিতে অন্য ফসল চাষ কঠিন হলেও চিনাবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। স্বল্প খরচ, কম পরিচর্যা ও ভালো লাভের আশায় বাদাম চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) যমুনা নদীর পাড়ের চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কার্তিক মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এসব বালুচরে বাদাম চাষের প্রস্তুতি ও বীজ বপনের কাজ চলছে। কোথাও জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা, আবার কোথাও সারি সারি জমিতে বীজ বুনছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ কেউ নিজেরাই চাষের কাজ করছেন। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই জীবিকার পথ খুঁজছেন তারা।
চরের উপরিভাগে বালুর আধিক্য থাকায় সেখানে অন্য ফসলের আবাদ তুলনামূলক কঠিন। এ কারণে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেন কৃষকেরা। জমিতে সারি তৈরি করে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। এরপর বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তুলনামূলক কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে বাদামগাছ।
যমুনা চরের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন কৃষকরা। এতে অল্প বিনিয়োগে ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পুখুরিয়া চরের কৃষক শামছুল হক বলেন, ‘চরের বালুময় জমিতে অন্য ফসল ভালো হয় না। বাদাম চাষে খরচ কম এবং পরিচর্যাও তুলনামূলক কম লাগে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে আরও বেশি জমিতে বাদাম আবাদ করা সম্ভব হবে।’
একই চরের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনার পানি নেমে যাওয়ার পর অনেক জমি পড়ে থাকে। এসব জমিতে বাদাম চাষ করলে বাড়তি আয় করা সম্ভব। কিন্তু সব জমিতে চাষ করার মতো সামর্থ্য সবার নেই। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আরও অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন।’
কৃষক দেলশাদ হোসেন বলেন, ‘বাদাম চাষ আমাদের জন্য আয়ের একটি ভালো উৎস হতে পারে। চরের অনেক জমি এখনো অনাবাদি পড়ে আছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে বাদাম চাষ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়বে। পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।’
নিউ সারিয়াকান্দি চরের কৃষক কোরবান আলী বলেন, ‘চরে বাদাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভালো বীজ, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। আমরা চাই, অনাবাদি জমিগুলো চাষের আওতায় আসুক এবং চরাঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হোন।’
কৃষকদের মতে, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বৈশাখী, সহড়াবাড়ি, রাধানগর, নিউ সারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা, বরইতলী ও পুখুরিয়া চরের শত শত বিঘা বালুময় জমি এখনো অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে বাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এ জন্য কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ ও সহযোগিতা চান স্থানীয় কৃষকেরা।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চলতি বছর উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটিও এ ফসলের জন্য উপযুক্ত। বাদাম চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। সার ও সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলের কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও বীজসহ কৃষি উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স