গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়, তৃতীয় দিন শেষে ধুঁকছে বাংলাদেশ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়, তৃতীয় দিন শেষে ধুঁকছে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টে তৃতীয় দিনের শুরুটা ছিল ক্যারিবীয়দের। দ্বিতীয় সেশনে নাঈম হাসানের ঘূর্ণিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ব্যাটিংয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে টিম টাইগার্স। ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তৃতীয় দিনের খেলা শেষের আগে কেবল ১০৬ রানের লিড জমাতে পেরেছে স্বাগতিকরা, হাতে ৪ উইকেট। প্রথম দুদিনের মতো শুক্রবার তৃতীয় দিনেও ছিল আলোকস্বল্পতা। বিকেল সাড়ে তিনটায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। প্রায় একঘণ্টা অপক্ষা করে আর গড়ায়নি। বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। এদিন মোট খেলা হয়েছে ৬৩ ওভার ৫ বল। দাপট দেখিয়েছেন স্পিনাররা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৩৮ রানের বিপরীতে ১২ উইকেট নিয়েছেন বোলাররা, যার ১০টি নিয়েছেন স্পিনাররা। বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৯৭.৪ ওভার ব্যাট করে ২৭২ রানে থেমে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে ৮২.৫ ওভারে ২৪৫ রানে থামে উইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। ২৭ রানের লিড নিয়ে ব্যাটে নেমে দিনের খেলা শেষের আগে ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রান। শনিবার জাকের আলি অনিক ১৮ এবং নাঈম হাসান ১৮ রানে শুরু করবেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে খালি হাতে ফেরেন ওপেনার। এরপর ধস নামান রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যান। ৩৫ রানের মধ্যে আউট হন ৫ ব্যাটার। সাদমান (১৩), তাওহীদ হৃদয় (০), শান্ত ১০ ও লিটন দাস (৪)। চাপ কাটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটে নামা জাকের আলি অনিক। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় হেলমেটে আঘাত পান মুমিনুল। পরে তার কনকাশন সাব করানো হয় জাকেরকে। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে মিলে যোগ করেন ১৮ রান। ৫৩ রানে মিরাজ আউট হলে জুটি আর বড় হয়নি। মিরাজ ৯ রান করে যান। এরপর জাকের ও নাঈম মিলে বাকি সময়টা পার করেন। জুটিতে যোগ করেন অবিচ্ছিন্ন ২৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়দের হয়ে চেজ ৩ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান দুটি এবং শামার জোসেফ নেন এক উইকেট। শুক্রবার ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রানে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ ৪৩ রানে এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে ব্যাটে নামেন। বাংলাদেশের হয়ে বলে শুরু করেন হাসান মাহমুদ। দিনের প্রথম সাফল্য আসে ৫৮.২ ওভারে ১৬২ রানে। পঞ্চম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। শরিফুলের বলে দ্বিতীয় স্লিপে শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৮৪ বলে ৫৬ রান করে। ষষ্ঠ উইকেটে রোস্টন চেজ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান যোগ করেন। ৭৪.৫ ওভারে ২১৩ রানে জুটি ভাঙেন নাঈম। গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করেন টাইগার অফস্পিনার। ১০৩ বলে ৪৬ রান করে যান গ্রুভস। উইকেট পতনের পর মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় দুদল। প্রথম সেশনে ২৬ ওভার ৫ বলে ৭৯ রান তুলে ২ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৮ ওভারে ৩২ রান যোগ করতে বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল। ২৩৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। মিরাজের বলে এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন বিশপ। বল নিচু হয়ে চলে যায় লিটনের গ্লাভসে। স্টাম্প ভাঙতে দেরি করেননি। ১১ বলে ১৫ রান করে ফেরেন। ৮১তম ওভারে দলীয় ২৪৫ রানে জোড়া আঘাত হানেন নাঈম। দ্বিতীয় বলে শামার জোসেফ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটনের গ্লাভসে। ১০ বলে ৪ রান করে। শেষ বলে জোমেল ওয়ারিক্যানকে এলবিডব্লিউ করেন। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি, খালি হাতে ফেরেন। এরপর আর কোনো রান যোগ করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ৮২.৫ ওভারে নাঈম হাসানের বলে মিডঅফে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন জেইডেন সিলেস। তাতে থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস। সিলেস খালি হাতে ফেরেন, চেজ অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। বাংলাদেশ হয়ে প্রথম ইনিংস থেকে নাঈম হাসান ১০.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন। মিরাজ ও তাইজুল নেন ২টি করে উইকেট। হাসান ও শরিফুল নেন একটি করে। মানচিত্রদেখুন এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সাদমান ইসলাম। ১০৫ রান করেন। তাওহীদ হৃদয় ৪২, লিটন দাস ৩৪*, মুমিনুল হক ২৮ রান করেন। বাকিদের কেউ নামের সাথে সুবিচার করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫ উইকেট নেন। জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফ নেন দুটি করে উইকেট। জেইডেন সিলেস নেন এক উইকেট।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।