গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪০ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

লালমাইয়ে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
লালমাইয়ে বিএনপির দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ

কুমিল্লার লালমাইয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ভূশ্চিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলার হরিশ্চরে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পূর্ববিরোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীরের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে হরিশ্চরে দলীয় কর্মসূচি শেষে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে ভূশ্চি বাজার এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীর, যুবদল নেতা মামুন ও সাদ্দাম এবং মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থক বিএনপি নেতা ফরহাদ উদ্দিন ও যুবদল নেতা তামিম ইকবাল আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের পর এক পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষের লোকজন বাজার এলাকা ছেড়ে চলে যান। এ সময় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ভূশ্চি বাজার এলাকায় অবস্থান নেন।

এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোজাম্মেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ব্যক্তিগতভাবে মনিরুল হক চৌধুরীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ১৩টি মামলার আসামি হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার অভিভাবক ও সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া হলেও মনিরুল হক চৌধুরীকে কেন্দ্র করেই এলাকায় দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, যুবদল নেতা মাকসুদুর রহমান মাকসুদ বলেন, আলমগীর নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তাদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরী ও তাকে নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এলাকায় এসেছেন এবং এর আগে তাকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তাকে ভূশ্চি বাজারের একটি দোকানে নিয়ে কথা বলা হয় এবং বিরোধের মীমাংসাও হয়েছিল। কিন্তু পরে কয়েকজন এসে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করেন। সমাবেশ শেষে তাদের পক্ষের ফরহাদ ও তামিমের ওপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।