গাজীপুরের টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় ইয়াবা তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। কারখানাটিতে ইয়াবা তৈরির জন্য রাসায়নিক উপাদান, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পরীক্ষাগার (ল্যাব) স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে কর্মরত এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, অনলাইনে দেখে ও পড়াশোনা করে ইয়াবা তৈরির প্রক্রিয়া শেখার চেষ্টা করেছেন তারা। তবে এখনো উৎপাদন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের একটি দল পাগাড়ের আলেরটেক এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ, রাসায়নিক উপাদান ও সরঞ্জাম পরিদর্শন করে। অভিযানের সময় কারখানার কার্যক্রম, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কীভাবে সেখানে ইয়াবা তৈরির প্রস্তুতি চলছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অনলাইনে শিখে কারখানা স্থাপনের চেষ্টা
অভিযানের সময় কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। ওই ব্যক্তি জানান, তিনি ছয় মাস ধরে সেখানে কাজ করছেন। তবে এখনো ইয়াবা উৎপাদন শুরু হয়নি এবং পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়নি।
কীভাবে এই কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি। একপর্যায়ে জানান, অনলাইনে দেখে তিনি এ বিষয়ে শিখেছেন। কারখানায় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলেও কথোপকথনে উঠে আসে।
সেখানে কর্মরত আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও কারখানাটি স্থাপনের ধারণা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন প্রতিবেদক।
কারখানায় ছিল রাসায়নিক ও আলাদা ল্যাব
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে ইয়াবা তৈরির জন্য আলাদা একটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও যন্ত্রপাতি রাখা ছিল। কারখানার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, এসব উপাদান ব্যবহার করে ট্যাবলেট তৈরির পরিকল্পনা ছিল।
ল্যাবটি ছিল তুলনামূলক ছোট। তবে সেখানে রাসায়নিক উপাদান, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনের প্রস্তুতির বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। পুলিশ সদস্যরা এসব উপাদান ও সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ করেন।
অভিযানের সময় গাজীপুর মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী পরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, কারখানাটিতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও যন্ত্রপাতি রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ করে এ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ দিকে অভিযানের সময় পুলিশ কর্মকর্তারা ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্যের বিস্তারকে তরুণ সমাজের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ধরনের মাদক উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কারখানাটির ভেতরের কক্ষ, ল্যাব এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর পাগাড় এলাকার আলেরটেকের কারখানায় পরিচালিত এ অভিযানের মধ্য দিয়ে ইয়াবা তৈরির প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে আসে। তবে কারখানাটিতে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল, কী পরিমাণ ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সেসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে দাবি পুলিশের।
সূত্র: কালবেলা