প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ এএম
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হুতিরা এডেন বিমানবন্দর ও মাআশিক প্রাসাদ লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে।
দুজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানিয়েছেন, ঘটনার পর তারা এডেনের প্রাসাদটিতে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেখেছেন। প্রাসাদটি একটি বিশাল চত্বর, যা সরকারি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর ব্যবহৃত সুবিধাসহ বেশ কয়েকটি ভবন নিয়ে গঠিত।
একাধিক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অভিযোগ করেন, হুতিরা দেশটির জাতীয় অবকাঠামো ও সম্পদে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাকে হুতিদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, অবরোধের অবসান চাওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে গোষ্ঠীটি।
তবে এডেনে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি সামরিক বাহিনী।
আরেক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে দেশটির বাহিনী ১ হাজার ৮৭টি হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে গোষ্ঠীটির প্রায় ৩৩৬ জন নেতা ও যোদ্ধা নিহত বা অকার্যকর হয়েছেন। এছাড়া ১১২টি সামরিক যান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অচল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মুখপাত্র জানান, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, স্থল কামান ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়।
হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল হুতিদের অগ্রবর্তী কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, শক্তিবৃদ্ধির জন্য পাঠানো সদস্য, গোলাবর্ষণের অবস্থান, সামরিক দুর্গ, রসদ ও চলাচলের পথ এবং ভারী অস্ত্রের সক্ষমতা।
তাইজে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্স যোদ্ধারা সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হুতিদের যোদ্ধাদের সমাবেশ, শক্তিবৃদ্ধি এবং অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালানো হয়েছে।
আল-জাওফ, মারিব ও আল-বায়দা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন রণাঙ্গনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সমন্বিত গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনী। এর উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ঠেকানো এবং বিভিন্ন রণাঙ্গনের মধ্যে তাদের শক্তিবৃদ্ধিকারী সদস্যদের চলাচল সীমিত করা।
ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র বলেন, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও হুমকির উৎসগুলো লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতাও নেওয়া হবে।
সূত্র : আরব নিউজ ও সিবিএস নিউজ
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স