প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
সংসারে অভাব, বাবার বেকারত্ব, পড়াশোনার খরচ জোগাতে মা-বাবার সংগ্রাম। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও দমে যায়নি কুড়িগ্রামের রাজারহাটের যমজ বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। সব বাধা পেরিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দুজনই অর্জন করেছে জিপিএ-৫। শুধু নিজেদের কলেজ নয়, উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী।
রহিমা ও রাবেয়ার বাড়ি রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামে। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন। তারা যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া। এ ছাড়া উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী।
রহিমা ও রাবেয়ার বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু বেকার। মা নাসিমা বেগম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে লড়তে হচ্ছে পরিবারটিকে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে মা-বাবাকে। তবে আর্থিক অনটন দুই বোনের পড়াশোনার আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
তাদের এই পথচলায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার দুই বোনের একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষও ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি তারা পেয়েছেন উপবৃত্তি।
মেয়েদের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। কয়েকজন শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।
নিজেদের সাফল্যের পেছনের পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রহিমা ও রাবেয়া জানায়, বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছে তারা। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়ার সময় বাদে প্রায় পুরো সময়ই পড়াশোনায় ব্যয় করেছে। এখন তাদের স্বপ্ন ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই যমজ বোনই মানবিক শাখা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এই অসাধারণ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। কলেজের পক্ষ থেকে দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
সূত্র: কালবেলা