গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

সবুজ পাতার পরশে কৃষকের ঘরে সচ্ছলতার হাসি

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সবুজ পাতার পরশে কৃষকের ঘরে সচ্ছলতার হাসি

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদীর তীরজুড়ে সারি সারি পানের বরজ এখন গোটা জনপদের কৃষকদের মুখে ফুটিয়েছে হাসির ঝিলিক। ভোরের মিষ্টি রোদে পানের বরজে পরিচর্যা আর পাতা তোলার ব্যস্ততায় প্রাণ ফিরে পায় চারপাশ। দীর্ঘমেয়াদি ফলন এবং ভালো দাম পাওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার কৃষকদের জীবনে এসেছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।

চন্দ্রঘোনা কদমতলী গ্রামের চাষি জাহাঙ্গীর আলম। গুমাইবিলে ধান চাষের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে তিনি ঝুঁকেছেন পান চাষের দিকে। তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ধান চাষের চেয়ে পান চাষে অনেক বেশি লাভ পাওয়া যায়। আর এই পানের বরজই তার সংসারের পুরোনো অভাব চিরতরে দূর করে দিয়েছে।

শুধু জাহাঙ্গীর একা নন, পারুয়া ইউনিয়নের কৃষক বিকাশ বড়ুয়া গত ৭-৮ বছর ধরে সফলভাবে পান চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি আরও ৬ শতক জমিতে নতুন বরজ গড়ে তুলেছেন। বাঁশ, গাছ, শ্রমিক ও জমি খাজনা বাবদ প্রাথমিক কিছু খরচ হলেও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। ভোরে ঘুম ভাঙতেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে পান কিনে নিয়ে যান, ফলে বিক্রির জন্য বাজারে যাওয়ার কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।

মরিয়মনগরের সিরাজুল ইসলাম ও পৌরসভার কৃষ্ণ কুমার দাশের মতো কৃষকরা জানান, ধান চাষে প্রতি মৌসুমে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে দফায় দফায় বাড়তি পুঁজি ও পরিশ্রম করতে হয়, সে তুলনায় লাভ বেশ সীমিত। অথচ পান একবার রোপণ করলে টানা ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ধান আবাদের চেয়ে পান বিক্রি করে তারা প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি আয় করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়ার ৫টি ইউনিয়নে বর্তমানে ২৯৫ জন কৃষক ৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছেন। এর মধ্যে- মরিয়মনগরে ১৫ হেক্টর, পদুয়ায় ১২ হেক্টর, পৌরসভায় ৯ হেক্টর, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ায় ৮ হেক্টর এবং পারুয়া: ৬ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে।

তবে সম্ভাবনার এই বিস্তারে কিছু শঙ্কাও রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীর ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে ৩ হেক্টর পানের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চাষীদের প্রত্যাশা, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে এই খাতে আরও বড় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

পানের বরজে মাঝেমধ্যে জাব পোকা, চিনি পোকা কিংবা পাতার দাগ, কাণ্ডপচা ও ঢলেপড়া রোগের মতো কিছু সমস্যা দেখা দিলেও কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিরাপদ ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পারুয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক কারিগরি জ্ঞান ও নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসাইন বলেন, পান একটি অত্যন্ত লাভজনক অর্থকরী ফসল। রাঙ্গুনিয়ার শত শত কৃষক ধান ও অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি পান চাষ করে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন। পাইকাররা সরাসরি গ্রাম থেকে পান কিনে নিয়ে যাওয়ায় কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই লাভজনক চাষে কৃষকদের সব ধরনের উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে দিন দিন এর পরিধি আরও প্রসারিত হচ্ছে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।