গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

জলসীমার আশেপাশে ৫০টির বেশি চীনা যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করল তাইওয়ান

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
জলসীমার আশেপাশে ৫০টির বেশি চীনা যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করল তাইওয়ান
জাপানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় ৫০টিরও বেশি চীনা নৌবাহিনী ও অন্যান্য সরকারি জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইওয়ান। এসব জাহাজের তৎপরতাকে নিজেদের পাশাপাশি জাপান ও ফিলিপাইনের জন্যও ‘স্পষ্ট হুমকি’ হিসেবে দেখছে তাইপে। এ পরিস্থিতিতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও কোস্টগার্ডের অবস্থান চিহ্নিত করে মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ জোরদার করেছে তাইওয়ান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে ৫৩টি জাহাজের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল চীনা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এসব জাহাজের মধ্যে চীনের বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংও রয়েছে। জোসেফ উ বলেন, ‘আমরা তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর সতর্ক নজর রাখছি। তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের জন্য একই সময়ে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।’ প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, লিয়াওনিং ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর ফিলিপাইনের পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। অন্য কয়েকটি বহর ছিল তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি। এ ছাড়া জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছেও তিনটি জাহাজের অবস্থান দেখানো হয়েছে। গত মে মাসেও একই ধরনের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন জোসেফ উ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে লিয়াওনিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমের অংশ। দূর সমুদ্রে দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করতেই এ মহড়া চালানো হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এটি পরিচালিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ফিলিপাইন ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। জাপানের জলসীমা পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজ বুধবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আগের দিন তিনটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও একটি কোস্টগার্ড জাহাজের গতিবিধি শনাক্ত করেছে তারা। জাহাজগুলো জাপানের কিউশু দ্বীপের কাছে সরু ওসুমি প্রণালি অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে। চলতি মাসেও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, লিয়াওনিং বিমানবাহী রণতরি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এ মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না বলেও দাবি করেছিল বেইজিং। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের সমর্থনে অসন্তুষ্ট বেইজিং। অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো প্রতিরক্ষামূলক সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা আমরা দেখতে চাই না।’ তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন সাগরে মহড়া শেষ করার পর লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন বহর উত্তর দিকে জাপানের দিকে অগ্রসর হয় কি না, সেটি পর্যবেক্ষণের বিষয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বহরটি যদি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তাহলে তা জাপানের প্রতিরক্ষা অবস্থানের ওপর আরও বেশি চাপ তৈরির অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দেবে।’ এদিকে তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে শক্তি প্রয়োগের পথ কখনোই পুরোপুরি বাদ দেয়নি চীন। তবে বেইজিংয়ের দাবি, তারা ‘শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ’ চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরই চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা সামনে রেখে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি সাজাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাওয়াইয়ে এক ফোরামে এ কথা বলেছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক। ক্লার্কের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে তাইওয়ান। তিনি বলেন, ‘তাইওয়ানকে দখল করতে শক্তি প্রয়োগের পথ চীন কখনোই পরিত্যাগ করেনি।’ চীন তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। অন্যদিকে তাইওয়ান সরকারের অবস্থান, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের। তাইওয়ানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডের ওপর চীনের কোনো দাবি করার অধিকার নেই। সূত্র: রয়টার্স

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।