প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ এএম || প্রকাশের তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম
যুক্তরাজ্যে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের পরিচয় চুরি করে সরকারি ভাতা বাবদ ১ লাখ ৭২ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ আত্মসাতের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আতিউর রহমান (৩৪) নামের ওই ব্যক্তি ২৬টি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে ৪০টির বেশি ভুয়া আবেদন করেছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বার্মিংহাম মেইল জানিয়েছে, ভুয়া কোম্পানি ও চাকরির তথ্য ব্যবহার করে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর সুবিধা এবং শিশু ভাতার জন্য আবেদন করেন আতিউর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ড্যাজলিং ডন তাকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করেছে।
এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া সরকারের ‘ইট আউট টু হেল্প আউট’ প্রকল্পের আওতায় ২০টি ভুয়া নিবন্ধনের মাধ্যমে ৬২ হাজার পাউন্ডের বেশি পাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে অর্থ পরিশোধের আগেই জালিয়াতি শনাক্ত করে রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ।
২০১৮ সালে পরিচয় চুরির শিকার এক ব্যক্তি প্রকৃত ভাতার জন্য আবেদন করতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা কর্মসংস্থান ও পেনশন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে আর্থিক নথি যাচাই করে চুরি করা পরিচয়ে একাধিক ভুয়া আবেদনের তথ্য বেরিয়ে আসে।
২০২১ সালের অক্টোবরে আতিউরকে গ্রেপ্তার করে রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘ইট আউট টু হেল্প আউট’ প্রকল্পে ভুয়া নিবন্ধনের কথা স্বীকার করেন। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত পাঁচটি প্রতারণার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন।
গত ৩০ অক্টোবর ক্যান্টারবেরি ক্রাউন কোর্ট তাকে ৪০ মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি আট বছরের জন্য কোম্পানির পরিচালক হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগের জালিয়াতি তদন্ত বিভাগের উপপরিচালক মার্গারেট মসলি বলেন, মহামারির কঠিন সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু আতিউর ব্যক্তিগত লাভের জন্য সেটির অপব্যবহারের চেষ্টা করেন। জালিয়াতি শনাক্ত হওয়ায় করদাতাদের ৬০ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ বেঁচে গেছে।
সূত্র: বার্মিংহাম মেইল
সূত্র: কালবেলা