ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। তিনি বলেছেন, গত দুই বছরে ওয়াশিংটন কেবল কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতেই ব্যর্থ হয়নি, বরং সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। খবর আল জাজিরার।
সোমবার (০২ নভেম্বর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাঘায়ি বলেন, আলোচনায় ইরানের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে মার্কিন সরকারের প্রকৃত আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ইরানের দাবিগুলো সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও যৌক্তিক।’
বাঘায়ি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বৈধ দাবিগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও পুনরায় খুলে দেওয়া বা নিরাপদ করা হবে না।
এদিকে ইরানের এই মুখপাত্র পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। তার মতে, ‘পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ ইসরায়েল।’ গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল তার নৃশংসতা আরও বাড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাঘায়ি বলেন, শীতকাল ঘনিয়ে আসছে। অথচ বাস্তুচ্যুত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের পরিস্থিতি বিপর্যয়কর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইউরোপের দেশগুলো এ পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছে। মানুষের জীবনকে নিছক পরিসংখ্যানে পরিণত করা এবং নৃশংসতাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা, যা মানবিক বিবেকের জন্য হুমকি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নিজস্ব বিধি অনুসরণ করে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন বাঘায়ি।
সূত্র : আল জাজিরা
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স