গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:২৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান ডিআইজির

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান ডিআইজির

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।

ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শ্রমিক ভাই-বোনদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। যারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে।’

ডিআইজি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল রোববার কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা জেলা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আজ কোনো গার্মেন্টসে হামলার সুযোগ ছিল না। কঠোরহস্তে ঢাকা জেলা পুলিশ পরিস্থিতি দমন করেছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকরা নিজেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন অথবা কোনো কারণে কারখানা বন্ধ করেছেন।’

এসপি শামীমা পারভীন বলেন, ‘পুলিশ কারখানাগুলোর পাশে রয়েছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি হবে না। শ্রমিকদের রুটি-রুজি ও দেশের অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানা খোলা রাখা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিরা শ্রমিক নন দাবি করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’

এসপি আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হেলমেট বা মাস্ক পরে যারা ভাঙচুর করছে, তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশে শামীমা পারভীন বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেবেন না। কাজে ফিরে আসুন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আপনাদের কেউ কাজে বাধা দিলে সেই তথ্য আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।