প্রায় ২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শেষে নিজ শহরে ফিরেছেন যুক্তরাজ্যের অভিযাত্রী কার্ল বুশবি। ৫৭ বছর বয়সী এই সাবেক সেনাসদস্য ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সোমবার ইংল্যান্ডের হাল শহরে নিজের শৈশবের বাড়িতে ফেরেন।
১৯৯৮ সালে চিলি থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। এরপর মধ্য আমেরিকার জঙ্গল পেরিয়েছেন, আলাস্কা থেকে রাশিয়ায় বরফের ওপর দিয়ে হেঁটেছেন। কাস্পিয়ান সাগর সাঁতরে পার হয়েছেন। গত মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রার শেষ পর্যায়ে পৌঁছান তিনি। পুরো ভ্রমণে কোনো মোটরচালিত যান ব্যবহার করেননি।
সোমবার সকালে হালের একটি চত্বরে শত শত মানুষ তাকে স্বাগত জানান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বুশবি বলেন, ২৮ বছর পর এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এরপর নিজের জিনিসপত্র একটি ছোট গাড়িতে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন। সেখানে তার মা, ৩৬ বছর বয়সী ছেলে ও ১২ বছর বয়সী নাতনি অপেক্ষা করছিলেন।
বিশের দশকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্যারাশুট রেজিমেন্টে কাজ করতেন বুশবি। বিবাহবিচ্ছেদের পর একদিন বিশ্ব মানচিত্রে একটি রেখা টেনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তার বাবা একসময় ভেবেছিলেন, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া সম্ভব কি না। বাবার সেই ভাবনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে।
শুরুতে ১০ বছরের মধ্যে ভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পথে নানা বাধার মুখে পড়েন। পানামায় কিছুদিন কারাবন্দি ছিলেন, মেক্সিকোতে বন্দুকের মুখে পড়েন এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে রাশিয়ায় আটক হন। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট ও করোনাভাইরাস মহামারির কারণেও যাত্রায় বিলম্ব হয়।
বুশবি বিবিসিকে জানান, ২৮ বছরের মধ্যে প্রায় ১৫ বছরই তিনি হেঁটেছেন। ভিসা, ভ্রমণের প্রস্তুতি ও পৃষ্ঠপোষকতার কাজ সামলাতে কয়েক দফায় মেক্সিকোতে ফিরতে হয়েছে তাকে।
তার এই দীর্ঘ যাত্রা নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে ইংল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
সূত্র: রয়টার্স
সূত্র: কালবেলা