গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম

১ হাজার সাবস্ক্রাইবার বেড়ে ২৭ লাখ, ১৮ মাসে ভিউ ১০০ কোটি!

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
১ হাজার সাবস্ক্রাইবার বেড়ে ২৭ লাখ, ১৮ মাসে ভিউ ১০০ কোটি!

শিশুদের বিনোদন জগতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় নাম কোকোমেলন। তবে এই প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে ভারতের নিজস্ব অ্যানিমেশন ব্র্যান্ড ইমোমি। মাত্র ১৮ মাসে ইউটিউবের এক হাজার সাবস্ক্রাইবারের ছোট চ্যানেল থেকে ১০০ কোটি ভিউ অর্জন করেছে ব্র্যান্ডটি। একই সময়ে নেটফ্লিক্সে জায়গা করে নিয়েছে তাদের দুটি শো। ২০২৫ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করে ইমোমি। শিশুদের জন্য ছোট ছোট অ্যানিমেটেড ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে পরিচিতি পেতে শুরু করে ব্র্যান্ডটি। এর প্রধান তিনটি চরিত্র ই, মো ও মি। বিনোদনের পাশাপাশি শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয় ভিডিওগুলো। ২০২৬ সালের অক্টোবর নাগাদ ইমোমির ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ লাখে। চ্যানেলটির মোট ভিউ পৌঁছেছে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটিতে। এর একাধিক ভিডিও এক মিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়েছে। ইউটিউবের গণ্ডি পেরিয়ে ২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সেও জায়গা করে নেয় ইমোমি। ‘বিগ স্কিলস ফর লিটল ওয়ানস’ এবং ‘প্লেটাইম এক্সপ্লোরার্স’ নামের দুটি শো বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে নির্মাতারা। ইমোমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পূজা জৌহরি জানিয়েছেন, ভারতীয় শিশুদের জন্য দেশীয় গল্প ও চরিত্রভিত্তিক বিনোদন তৈরির আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই উদ্যোগের জন্ম। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় শিশুরা বিশ্বের অন্য প্রান্তে তৈরি চরিত্রগুলোর সঙ্গে বড় হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, পরবর্তী বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শিশুতোষ বিনোদন ফ্র্যাঞ্চাইজি ভারত থেকে কেন আসতে পারে না? ইমোমির ভিডিওগুলোতে শেখার বিষয়টি থাকলেও নির্মাতাদের মূল লক্ষ্য শিশুদের বিনোদন দেওয়া। পূজা জৌহরি জানান, ই, মো ও মি চরিত্রগুলো শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, প্রতিকূলতা মোকাবিলা, আত্মবিশ্বাস, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তবে শিশুদের কাছে শেখার বিষয়টি সরাসরি উপস্থাপন করা হয় না। বরং চরিত্র, গল্প ও আনন্দের মধ্য দিয়েই শেখার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। ইমোমির যাত্রা শুরু হয়েছিল ইউটিউবের ছোট ভিডিও দিয়ে। তবে শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ পর্ব এবং একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত গল্পের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে পৌঁছানো। পূজা জৌহরি বলেন, ইমোমির বৃদ্ধির গতি তাদের প্রাথমিক প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে তাদের লক্ষ্য কেবল একটি সফল ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা ছিল না। বরং এমন একটি বৈশ্বিক শিশুতোষ বিনোদন ফ্র্যাঞ্চাইজি গড়ে তোলা, যার চরিত্রগুলো বিভিন্ন পর্দা, অভিজ্ঞতা ও পণ্যের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে। নেটফ্লিক্সে ইমোমির যাত্রা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। চলতি বছরের শুরুতে ব্র্যান্ডটির দ্বিতীয় শো ‘প্লেটাইম পার্টনার্স’ মুক্তি পায়। নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে পরিবারগুলো তাদের নিয়মিত বিনোদনের অংশ হিসেবে ইমোমির শোগুলো দেখার সুযোগ পাচ্ছে। পূজা জানান, ‘প্লেটাইম এক্সপ্লোরার্স’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে তারা টেলিভিশনধর্মী ধারাবাহিক গল্প বলার দিকে এগিয়েছেন। এতে আরও গভীর গল্প এবং চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই যাত্রা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, বাজার ও ভাষায় ইমোমিকে আরও সহজলভ্য করে তোলাই এখন তাদের অগ্রাধিকার। ইমোমি ও কোকোমেলনের মতো অ্যানিমেশন শিশুদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এলএইচ হিরানন্দানি হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মনোবিজ্ঞানী কাকুল ফারুকি। তার মতে, উজ্জ্বল রং, আকর্ষণীয় সংগীত, শব্দের পুনরাবৃত্তি এবং পরিচিত চরিত্র ও গল্প শিশুদের স্বাভাবিকভাবেই আকৃষ্ট করে। ইমোমি ও কোকোমেলনের ভিডিওগুলোতে এসব উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওগুলো ছোট হওয়ায় সহজেই দেখা যায়। সংগীত ও অ্যানিমেশনের কারণে এগুলো দেখার জন্য শিশুদের খুব বেশি মানসিক পরিশ্রমও করতে হয় না। ফারুকির মতে, শিশুদের বিনোদন ও শেখার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় শিশুরা গল্পের বই শুনত, বইয়ের পাতা উল্টাত, চরিত্রগুলো কেমন দেখতে তা কল্পনা করত, খেলনা নিয়ে খেলত কিংবা নিজেরাই নতুন খেলা তৈরি করত। এসব কার্যক্রম শিশুদের কল্পনাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, ভাষা ও যোগাযোগের ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করত। তবে তার মতে, অ্যানিমেশন ভিডিও ও কার্টুন এখনও পুরোপুরি গল্পের বই কিংবা প্রচলিত খেলাধুলার জায়গা দখল করেনি। বরং শিশুদের বিনোদন ও শেখার পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। হিন্দুস্তান টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।