প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংযোগ থাকতে পারে। সরকার এমনটাই মনে করে। তবে গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে ফেরার পথ তৈরির জন্য এটি হচ্ছে বলে সরকার মনে করে না।
সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা বিষয় আমরা আগেও বলেছি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে কোনো কিছু করতে পারবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু যেহেতু তাদের কাছে প্রচুর টাকাপয়সা আছে, লুটের টাকাপয়সা, তারা কোথাও কোথাও কোনো না কোনো ফর্মে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে, টাকাপয়সা খরচ করে।’
আন্দোলনে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জড়িত থাকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যের কথা বলে জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন, তাঁর কাছে নিশ্চিত তথ্য আছে, সুতরাং সেটার সঙ্গে তাদের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) সংযোগ থাকতেই পারে। এটার মানে এই না ডিসেম্বরে তাঁর (শেখ হাসিনা) ফেরার পথ তৈরি করার জন্য এটা হচ্ছে। সরকার সেভাবে মনে করে না।’
গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পোশাক খাতের চলমান শ্রমিক আন্দোলনের বহিরাগতদের উসকানি বা ইন্ধনের বিষয়ে সতর্ক সরকার। এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু পোশাকশিল্প মালিকেরা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মনে করছে সরকার। এ জন্য দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পলাতক কিছু নেতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই তাঁদের যে ন্যায্য দাবি, সেটার ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য আছে। তাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছেন। কিন্তু এখানে অনেক রকম ঘটনা ঘটছে। সরকার আশা করে মূল যে দাবি মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে, সত্যিকারের শ্রমিকেরা এ ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপকে সম্মান জানিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসবেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বলেন তথ্য উপদেষ্টা। সেটা সরকার বোঝে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠন হওয়ার পর আন্দোলনের মূল যে দাবি, সেটা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এখন এরপর যখন এটা চলতে থাকে বা যে ধরনের সহিংস আচরণ কারও কারও মধ্যে দেখা গেছে, যেটা মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছেন, সেটা হচ্ছে কোনোভাবেই সেটা গার্মেন্টস কর্মীরা হতে পারেন না।’
সূত্র: প্রথম আলো