গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

সরকারি জমি আত্মসাতে জাল দলিল, যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সরকারি জমি আত্মসাতে জাল দলিল, যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজারে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার মামলায় মো. সাদেক খান নামের এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি।

তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় দুদকের পক্ষে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দুদকের এজাহার ও মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ০.৭৯০৬ একর জমি আত্মসাতের চেষ্টা করেন সাদেক খান। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৬৮ সালের ২২ মে তারিখের ২৬৩১ নম্বর একটি দলিল তৈরি করেন। পরে সেটিকে টার্নার মরিসান কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে জমি কেনার দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, ১৯৬৮ সালের ৪৬ নম্বর বালামের ২৮৮ ও ২৮৯ পৃষ্ঠায় থাকা ২৬৩১ নম্বর দলিলটি আসলে একটি দানপত্র। এর গ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়ন হাইস্কুলের সেক্রেটারির নাম। অর্থাৎ দলিলটি লালখানবাজারের জমির নয়, আনোয়ারার একটি সম্পত্তির। শুধু তাই নয়, লালখানবাজার মৌজার জন্য নির্ধারিত ১৯৬৮ সালের সূচিপত্রেও ২৬৩১ নম্বর দলিলের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। অথচ ওই দলিলের ফটোকপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখায় এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছিল বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ০.৭৯০৬ একর জমি পিএস খতিয়ান নম্বর ৩১৩-এর ৯২৩ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে বিএস খতিয়ান নম্বর ২৬৯-এর ১৮১৫ নম্বর দাগ হিসেবে চিহ্নিত হয় জমিটি। ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল প্রকাশিত সরকারি গেজেটে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিটি কাজী আকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়।

এরপরও জমির মালিকানা দাবি করে সাদেক খান জাল দলিলটি সরকারি বন্দোবস্তসংক্রান্ত ভিপি মামলা এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আসল দলিল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ আনে দুদক।

দুদক জানায়, ২০১৫ সালের ১১ জুন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখা থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়। দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় দায়ের করা এ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল বারী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

পরে ২০২৫ সালের ১৯ জুন বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে বিচার চান সাদেক খান। বিচার চলাকালে দুদকের পক্ষে ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।