প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তিন শতাধিক মুসলিম পরিবারের বসবাস। তাদের সঙ্গেই মিলেমিশে আছে একটি হিন্দু পরিবার। এই পরিবারকে বছরের পর বছর আগলে রেখেছে মুসলিম প্রতিবেশীরা। তাদের পাশে থেকে সুখে-দুঃখে, সময়-অসময়ে পারস্পারিক ভাতৃত্ববোধ নিয়ে জীবন-যাপন করছেন তারা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই গ্রামটিতে হিন্দু-মুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই।
উপজেলার নরসিংহপাড়া গ্রামে ৩০০ মুসলিম পরিবার বসবাস করলেও সাম্প্রদায়িক আক্রমণ বা রাজনৈতিক উত্তাপ কখনই স্পর্শ করেনি হিন্দু পরিবারকে। গ্রামটিতে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির রয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি, দূর থেকে পানির মধ্যে জেগে থাকা গ্রামটিকে অনেক সুন্দর দেখায়। বন্যার সময় এই গ্রামে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা।
হাফেজ আলমাস আলী বলেন, এই গ্রামে হিন্দু মুসলিম একত্রে বসবাস করে। গ্রামে স্কুল, মাদরাসা, কবরস্থান ও একটি মন্দির রয়েছে। প্রায় ৩০০ মুসলিম ও একটি হিন্দু পরিবার সবাই মিলেমিশে থাকেন।
হিন্দু পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘আমরা হিন্দু-মুসলমান এক হয়ে গ্রামটিতে বসবাস করছি। মুসলমানদের কেউ আমাদের ওপর কোনো অন্যায়, অত্যাচার-অবিচার করে না। আমরাও তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকি। এই গ্রামে আমরা খুবই ভালো আছি। সুখ-দুঃখে আমরা একেঅপরের পাশে দাঁড়াই।’
হিন্দু পরিবারের সদস্য বাপ্পি চক্রবর্তী বলেন, ‘এই গ্রামে আমার বাপ-চাচা, দাদু বসবাস করে গেছেন। আমরা হিন্দু মুসলমান বন্ধুর মতো মিলে একসঙ্গে চলি। আমাদের জমিজমা আছে, মন্দির আছে। আমরা এখানে পূজা করি, কোনো সমস্যা হয় না।’
কালিপদ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারো ঝগড়া বিবাদ নাই। কেউ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করেন না; আমারাও করি না। আমার জন্ম এখানে। আমার বাপ ঠাকুররা চলে গেছেন। বড় ভাই মারা গেছেন। আমারও যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। আমাদের প্রায় দেড়শত বছর ধরে বসবাস। হিন্দু, মুসলিম সবাই এক সঙ্গেই চলাফেরা করি।
শুকলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুষার চক্রবর্তী বলেন, ‘নরসিংহপাড়া গ্রামেই আমার জন্ম। ছোট থেকেই সবাই মিলেমিশে বড় হয়েছি। আলাদা জাতি হলেও সব মিলিয়ে আমরা ভালো আছি।’
উল্লাপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও নরসিংহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই গ্রামেরই বাসিন্দা। গ্রামে প্রায় ৩০০ মুসলিম পরিবারের বসবাস। পূর্ব আমল থেকেই একটি হিন্দু পরিবারও বসবাস করে। তাদের সঙ্গে চলাফেরা-উঠাবসাতে কোনো দ্বন্দ্ব হয়না। হিন্দু-মুসলিম এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই।’
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স