গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২২ এএম

হত্যার ৩ বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে প্রবাসীর দেহাবশেষ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
হত্যার ৩ বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে প্রবাসীর দেহাবশেষ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রায় তিন বছর আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে নিহতের মরদেহের অবশিষ্টাংশ ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহানারা বেগম (৩৪), তার স্বামী মো. শাহ আলম (৪২), তার ছোট ভাই মো. ইয়াছিন মিয়া (২৪) ও মো. জয়নার মিয়া (২৪)।

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মাধবপুর উপজেলায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় ১৮ আগস্ট ২০২৩ তারিখে একটি হত্যা মামলা হয়। মামলাটি প্রথমে মাধবপুর থানা পুলিশ তদন্ত করলেও জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রযুক্তির সহায়তা এবং একটি অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যান।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর মাধবপুর পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামী মো. শাহ আলম এবং তার দুই দেবর ইয়াছিন মিয়া ও জয়নার মিয়াকে মাধবপুরের মনতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জানায়, প্রায় তিন বছর আগে নিহত মো. মহববত আলী জাহানারা বেগমকে অনৈতিক প্রেমের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় জাহানারা বেগমের স্বামী ও সন্তানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা বেগম, তার স্বামী ও দেবররা মহববত  আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ গুম করেন।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার শাহ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাধবপুরের রামনগর এলাকায় প্রবাসী রুনা বেগমের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে নিহত মহব্বত  আলীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার জাহানারা বেগম ও মো. শাহ আলম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।