আমাদের দেশে চোখের অ্যালার্জি বর্তমানে একটি বহুল পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যেখানে চোখে পানি লাগলেই তীব্র চুলকানি বা অস্বস্তি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা সাধারণত চোখের ভেতরে সরাসরি পানি স্পর্শ না করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অজু করার সময় চোখের অভ্যন্তরে পানি না পৌঁছালে অজু ও নামাজ আদৌ শুদ্ধ হবে কি না—তা নিয়ে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে সংশয় জাগে।
সাধারণ মানুষের এই ব্যবহারিক জিজ্ঞাসার আলোকে নির্ভরযোগ্য শরয়ি সমাধান উপস্থাপন করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি রেজাউল করীম আবরার। সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক আলোচনায় এই সমাধান জানান তিনি।
ফিকহি দৃষ্টিকোণ ও শরীয়তের বিধান
অজু করার ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের অন্যতম মৌলিক ফরজ বিধান হলো পুরো মুখমণ্ডল বা চেহারা ধৌত করা। তবে শরিয়তের ফিকহি নীতি অনুযায়ী, ‘চেহারা ধৌত করা’ বলতে কেবল চেহারার বাহ্যিক অংশ ধোয়াকে বোঝায়। চোখের ভেতরের সংবেদনশীল অংশ ধোয়া বা সেখানে পানি পৌঁছানো অজুর জন্য আবশ্যক বা বাধ্যবাধকতামূলক নয়।
এ বিষয়ে মুফতি রেজাউল করীম আবরার ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ‘আল-মুহীতুল বুরহানী’-এর ১ম খণ্ডের ১৬১ নম্বর পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন। গ্রন্থটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘ইছালুল মা দাখিলিল আইনাইনি সাকিত’। অর্থাৎ চোখের অভ্যন্তরে পানি পৌঁছানোর বিধান রহিত/আবশ্যক নয়। সুতরাং, অজুর সময় চোখের ভেতরে পানি প্রবেশ করানো শরিয়তে মোটেও প্রয়োজনীয় নয়।
তাই যাদের চোখে অ্যালার্জি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে পানি দেওয়া নিষেধ, তারা চোখের ভেতরের অংশে পানি না দিয়ে কেবল চেহারার বাহ্যিক অংশ ভালোভাবে ধৌত করলেই অজুর ফরজ সঠিকভাবে আদায় হয়ে যাবে।
চোখের ভেতরে পানি না যাওয়ার কারণে অজুর শুদ্ধতায় বিন্দুমাত্র কোনো সমস্যা বা ত্রুটি হবে না। একইসঙ্গে এই অজু দিয়ে আদায় করা নামাজও শতভাগ সহি ও শুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স