গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০১ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

দাকোপে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অসদাচরণের অভিযোগ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
দাকোপে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অসদাচরণের অভিযোগ

খুলনার দাকোপে আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শুধু প্রধান শিক্ষকের অপসারণ নয়, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান। এর আগে একই অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দা ইকরামুল মোল্যা।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের অকেজো চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ দিয়ে নিজের ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী ইকরামুল মোল্যা বলেন, প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন বিশ্বাসের অসদাচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও মান দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পড়াশোনার মান ভালো না হওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা খোকন গোলদারের সঙ্গেও প্রধান শিক্ষকের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। খোকন গোলদার বলেন, বিদ্যালয়ের চারপাশের গাছপালা ও অন্যান্য বিষয় খোঁজখবর নিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তিনি বলেন, এটা তাদের সম্পদ। জমি দান করা শেষ, এখন আর কোনো ভালো-মন্দ জানার দরকার নেই।

খোকন গোলদারের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে চালনা পৌরসভার মেয়র প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড চালাতেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাস। সে সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ জনে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। তাদের একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, স্থানীয়দের অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।

অভিযোগের বিষয়ে দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেক্সানা আক্তার কালবেলাকে বলেন, ‘ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। অপরাধের ধরন বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।