গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

‘বড় ভালো লোক ছিল’ এন্ড্রু কিশোর

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
‘বড় ভালো লোক ছিল’ এন্ড্রু কিশোর

বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতের অবিসংবাদিত সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের ৭১তম জন্মদিন আজ। ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবিতে তিনি গেয়েছিলেন, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলেই ঠুস।’ তার জীবনের ফানুসটা একদিন আচমকা থমকে গিয়েছিল, কিন্তু যে সুর তিনি এ দেশের মানুষের বুকে বুনে দিয়ে গেছেন, তার দম ফুরোবার নয়। ১৯৫৫ সালের এই দিনে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী ২০২০ সালের ৬ জুলাই ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ‘দয়ালে’র ডাকে সাড়া দিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। তার জন্মদিনে চারপাশের অনুরাগীদের মুখে আজ একটাই দীর্ঘশ্বাস—‘বড় ভালো লোক ছিল’।

রাজশাহীর ললিতকলা একাডেমিতে ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল তার। সত্তরের দশকের শেষের দিকে সলিল চৌধুরীর সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে পা রাখেন। তবে তিনি যে সাধারণ কোনো গায়ক নন, তার প্রমাণ মেলে ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা আর আলম খানের সুরে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানটি গেয়ে তিনি পান তার জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেই সিনেমার শিরোনাম আজ তার জন্মদিনে যেন একটা পরম সত্যি হয়ে ফিরে এসেছে।

এন্ড্রু কিশোর শুধু গান গাইতেন না, তিনি সিনেমার পর্দায় চরিত্রের আবেগ ঢেলে দিতেন। রোমান্টিক বিরহ, জীবনের দর্শন কিংবা চটুল আনন্দ—সবখানেই তার কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’—এমন অসংখ্য কালজয়ী গান বাংলা সিনেমার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রেকর্ডসংখ্যক ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

সংগীত অঙ্গনে এন্ড্রু কিশোর শুধু একজন বড় শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন এক অমায়িক ব্যক্তিত্বের মানুষ। জুনিয়র শিল্পীদের মেন্টরিং করা, সহকর্মীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আর সদালাপী স্বভাবের জন্য চলচ্চিত্র পাড়ায় তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘কিশোর দা’। তার চলে যাওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রির শূন্যতা তো কাটেইনি, বরং আজ তার জন্মদিনে সহকর্মী আর ভক্তদের স্মৃতিচারণায় বারবার উঠে আসছে তার সেই উদার মানসিকতার কথা।

মানুষের জীবন সত্যিই রঙিন ফানুসের মতো ক্ষণস্থায়ী, এন্ড্রু কিশোরের জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু ফানুসটা হারিয়ে গেলেও, সেই ফানুসের রেখে যাওয়া রঙের ছটা—তার সুর আর কণ্ঠ—বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে থেকে যাবে অনন্তকাল। শুভ জন্মদিন, প্লেব্যাক সম্রাট!

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।