চিকিৎসা বিলের ওপর প্রত্যাশিত ছাড় না দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে একদল যুবক হাসপাতালটিতে এ হামলা চালায়। এতে হাসপাতালের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলায় সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িত। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চিকিৎসক শহীদুল বারী। তিনি জানান, রাত ৩টার দিকে একদল যুবক আকস্মিকভাবে হাসপাতালে এসে হামলা চালায়। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আসমা নামের এক রোগীর চিকিৎসার বিল থেকে কিছু টাকা ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানান তার স্বজনরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু টাকা ছাড় দিলেও স্বজনরা আরও ছাড় দাবি করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন যুবক হাসপাতালে জড়ো হয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় হাসপাতালের নিচতলার অভ্যর্থনাকেন্দ্রের (রিসেপশন) আসবাবপত্র, বসার জায়গা ও বাউন্ডারির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
সিটি হাসপাতাল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ উসমান গনী জানান, তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এসে হামলা চালায়। এই হামলায় গ্রাফিক আর্টস কলেজের ভেতর থেকে লোকজন এসেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কলেজটির আবাসিক হলের ছাত্র।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা হাসপাতালের নিচতলায় থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটও চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে, ঘটনার পর বুধবার সকালে পুলিশের কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার ঘটনায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: কালবেলা