যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পর বড় ধরনের দরপতন হয়েছে মার্কিন ডলারের। দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ডলারের মূল্য এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপকারী ডলার সূচক এক মাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। বিপরীতে ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইউরো। জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর বিপরীতেও দর হারিয়েছে মার্কিন মুদ্রা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এসব মুদ্রার দিকে ঝোঁকেন।
এদিকে মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদহারও কমেছে। ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৪ দশমিক ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৯১৮ শতাংশে এবং দুই বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ৩ দশমিক ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৫৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বন্ডের দাম বাড়লে সাধারণত সুদহার কমে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।
এআই খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় এ খাতের শেয়ারেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস এআই কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে পারে। এতে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ইউরোপের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। লন্ডন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির প্রধান সূচক বেড়েছে। ব্যাংক ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের শেয়ারগুলোও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও বাণিজ্যনীতি, শুল্ক, পররাষ্ট্রনীতি ও বিদ্যমান বিধিবিধানের মাধ্যমে ট্রাম্পের বাজারে প্রভাব রাখার সুযোগ থাকবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সূত্র: কালবেলা