গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ, শ্রমিকদের ফাঁসানোর অভিযোগ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ, শ্রমিকদের ফাঁসানোর অভিযোগ

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের সাইনবোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সড়ক এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। পরে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়তে রাজি না হওয়ায়  কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। 

আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শ্রমিকদের দাবি, তারা নিজেদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। কিন্তু আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগত একটি গোষ্ঠী ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

শ্রমিকদের ভাষ্য, তাদের আন্দোলনের মূল দাবি ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। কিন্তু ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে অনেক শ্রমিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। 

ওয়েসিস ফ্যাশন লিমিটেডের অপারেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী মুখোশ ও মাস্ক পরে মিছিলে প্রবেশ করছে। তারা ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশকে মারধরের মতো ঘটনা ঘটিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। আমরা গরিব মানুষ। সরকারের কাছে জোর দাবি- আমাদের ন্যায্য মজুরির দাবি মেনে নেওয়া হোক। যারা নাশকতা করছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হোক।’ 

লরেন্স ফ্যাশন লিমিটেডে অ্যাডমিন টু ও নিডলম্যান হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ আবুল বাশার বাবু বলেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি গোষ্ঠী এ ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমরা সংঘাত চাই না, শান্তি চাই। আমরা বাঁচতে চাই। সাধারণ মানুষ হিসেবে এত কিছু বুঝি না, শুধু ন্যায্য অধিকার চাই। শ্রমিকদের নামে যেসব মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই গরিব মানুষ। আপনারা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন, কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত। শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে কেউ যেন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।’

অনন্ত গার্মেন্টসের নারী অপারেটর নাজমা বেগম বলেন, ‘আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চাই। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু লোক আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। তারা নাশকতা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। শ্রমিকেরা বরাবরই নির্যাতিত হয়ে আসছেন। এখন আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

শ্রমিকেরা বলেন, তাদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যেন নাশকতা চালিয়ে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছেও মনে হচ্ছে, কোনো শ্রমিক এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত নন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যারা শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে সহিংসতা ছড়াচ্ছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।