গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম

সুনীল কি বেঁচে আছেন, মার্শালের পরিণতি কী—উত্তর নিয়ে আসছে ‘ফেউ’

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সুনীল কি বেঁচে আছেন, মার্শালের পরিণতি কী—উত্তর নিয়ে আসছে ‘ফেউ’

সুনীল কি আদৌ বেঁচে আছেন, নাকি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে মারা গেছেন? সুন্দরবনের মৌয়াল থেকে জলদস্যু দলের সরদার হয়ে ওঠা মার্শাল কি পারবেন মানুষের অধিকার আদায় করতে? ডুমুরঝাঁপির মানুষগুলোর কি শেষ পর্যন্ত আশ্রয় মিলবে? ‘ফেউ’ দেখে যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন দর্শকেরা, এবার সেগুলোর পরিণতি জানা যাবে। ১২ নভেম্বর চরকিতে আসছে ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’।

তবে এটি ‘ফেউ’–এর দ্বিতীয় মৌসুম নয়। প্রথম মৌসুমের কিছু অংশের সঙ্গে বাকি গল্প যুক্ত করে তৈরি হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এই ধারাবাহিক। চরকির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৯ পর্বের ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’ মুক্তি পাবে ১১ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টায়, অর্থাৎ ১২ নভেম্বরের শুরুতে।

জঙ্গলের নিয়ম ভাঙলে কী হয়

৩ নভেম্বর রাতে প্রকাশিত হয়েছে ধারাবাহিকটির প্রচার–ঝলক। সেখানে শোনা যায় জঙ্গলের নিজস্ব নিয়মের কথা। একটি সংলাপের বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম, জঙ্গলের নিজস্ব কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেগুলো ভাঙলে বিপদে পড়তে হয়।’ এই সতর্কবার্তা আর রহস্যঘন দৃশ্যে আভাস মিলেছে আসন্ন সংঘাতের।

গল্পে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন রহস্যময় মার্শাল। অন্যদিকে তরুণ ড্যানিয়েল জড়িয়ে পড়েন বিদেশি চরদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সুন্দরবনের দুর্গম জনপদে তাঁদের লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায় ইতিহাস, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মানুষের আশ্রয় ও অধিকার আদায়ের প্রশ্ন।

বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় কাল্পনিক গল্পটি লিখেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান। চিত্রনাট্য করেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ। পরিচালনা করেছেন ধীমান।

এটি ‘ফেউ’–এর দ্বিতীয় মৌসুম নয়। প্রথম মৌসুমের কিছু অংশের সঙ্গে বাকি গল্প যুক্ত করে তৈরি হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এই ধারাবাহিক

দ্বিতীয় মৌসুম নয়, পূর্ণাঙ্গ গল্প

নির্মাতা জানান, প্রথম মৌসুমে ইতিহাস, জনপদ, সেখানকার মানুষের সংকট ও রাজনীতির পটভূমি বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। এবার সেই ঘটনাপ্রবাহ এসে মিলবে এক বিন্দুতে। ড্যানিয়েলের বাবাকে খুঁজে পাওয়ার অভিযানের পরিণতি এবং মার্শালের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগ্রামের শেষটাও উঠে আসবে। পাশাপাশি গল্পের জনপদটির ভূরাজনীতির নানা দিক পরিষ্কার হবে।

সুকর্ণ শাহেদ ধীমান বলেন, ‘প্রথম মৌসুমে আমরা গল্পটির ভিত্তি ও ইতিহাস খুব বিশদভাবে তৈরি করেছিলাম। এবার গল্পটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাচ্ছে। “ফেউ কমপ্লিট সাগা” দেখলে দর্শক পুরো গল্পটি একেবারে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। এমনকি যাঁরা প্রথম মৌসুমটি দেখেননি, তাঁরাও এটি দেখলে কোনো অসম্পূর্ণতা বোধ করবেন না। বলতে গেলে, আলাদা করে প্রথম মৌসুম বলে আর কিছু থাকছে না; “ফেউ কমপ্লিট সাগা”ই “ফেউ”–এর আসল ও পূর্ণাঙ্গ গল্প।’

নির্মাতার ভাষ্যে, ‘এটি শতভাগ দেশি গল্পের ধারাবাহিক। এ গল্পে দক্ষিণবঙ্গের বীরত্বগাথা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে।’

ফেউ কমপ্লিট সাগা’ ’-এর দৃশ্যে

মার্শাল একজন সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি

‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’য় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সুনীল ও মার্শালের পরিণতি। চরিত্র দুটিতে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে চঞ্চল চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।

মার্শালকে নিয়ে ইমরান বলেন, ‘মার্শাল চরিত্রটি একজন প্রকৃত সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি। তার বেশভূষা, পোশাক, শারীরিক ভাষা ও আচরণে দারুণ একটি গভীরতা রয়েছে। পুরো কাজটির অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। অবশেষে দর্শক পুরো গল্পটা দেখতে পাবেন এবং এটি দেখার পর তাঁরা আসল রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করছি।’

মৌয়াল থেকে জলদস্যু দলের সর্দার হয়ে ওঠা মার্শালের লড়াই কোথায় গিয়ে থামবে, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি কতটা এগোতে পারবেন—পূর্ণাঙ্গ গল্পে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

প্রায় এক বছর ধরে চিত্রধারণ

২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় এক বছর ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকটির চিত্রধারণ হয়েছে। নির্মাতা জানিয়েছেন, চালনা, বটিয়াঘাটা, বাজুয়া, মোংলা এবং খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেছেন তাঁরা। সুন্দরবনের দুর্গম স্থানেও দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

প্রধান অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার শতাধিক শিল্পী। অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আরও আছেন তারিক আনাম খান, তানভীর অপূর্ব, হোসাইন জীবন, তাহমিনা অথৈ, রিজভি রিজু, ফাদার জোয়া, বাবলু বোস, এ কে আজাদ সেতু, আনোয়ার হোসেন, রন্তিক দীপু, আমিরুল ইসলাম ও আবিদ মল্লিক।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘“ফেউ”–এর প্রথম মৌসুম মুক্তির পর এর গল্প, চিত্রধারণের স্থান ও দৃশ্যায়ন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। গল্পের সঙ্গে ইতিহাস, রাজনীতি ও বাবাকে খুঁজে পাওয়ার যাত্রা আছে। সুন্দরবনের খুবই দুর্গম জায়গায় চিত্রধারণ হয়েছিল। বিষয়গুলো দর্শকেরা পর্দায় অনুধাবন করতে পেরেছেন। আশা করছি, দারুণ সব দৃশ্যায়ন এবং নবীন–প্রবীণদের অভিনয়ে ইতিহাস ও সংগ্রামের যাত্রাটা দর্শকদের কাছে আরও উপভোগ্য হয়ে উঠবে।’

ধারাবাহিকটির নামেও রয়েছে গল্পের রাজনৈতিক ইঙ্গিত

কেন নাম ‘ফেউ’

ধারাবাহিকটির নামেও রয়েছে গল্পের রাজনৈতিক ইঙ্গিত। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ফেউ’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাঘের পেছনে থেকে ডেকে তার আগমন জানান দেয় যে শৃগাল, তাকে বলা হয় ফেউ। আবার ‘ফেউ লাগা’ বলতে কারও পেছনে লেগে ক্রমাগত উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাও বোঝায়।

নামটি বেছে নেওয়ার কারণ জানিয়ে ধীমান বলেন, ‘গল্পের রাজনৈতিক বর্ণনায় ফেউ প্রাসঙ্গিক। মানুষের স্বভাবজাত আতঙ্ক, ভয় যখন দৈনন্দিন হয়ে যায়, তখনো সেটা ফেউ শব্দ দিয়ে বোঝানো সম্ভব। সে কারণেই ধারাবাহিকের নামে ফেউ শব্দটা আছে।’

‘ফেউ’-এর দৃশ্যে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মরিচঝাঁপিতে উদ্বাস্তুদের ওপর সংঘটিত নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের ছায়া রয়েছে গল্পে। দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের একটি অংশ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মরিচঝাঁপিতে বসতি গড়েছিলেন। পরে তাঁদের উচ্ছেদকে ঘিরে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। সেই ইতিহাসের অনুপ্রেরণায় নির্মিত কাল্পনিক আখ্যানে মানুষের আশ্রয়, অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন তুলে ধরেছে ‘ফেউ’।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।