প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী নকশার জুতা। একসময় ফ্যাশনের দুনিয়ায় এ ধরনের জুতার দেখা মিলত মূলত র্যাম্পে। তবে সেই প্রবণতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। পাঁচ আঙুলের জুতা, খুরের মতো নকশা কিংবা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের জুতা ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘ফ্রিকি ফুটওয়্যার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
একসময় অফিসগামী মানুষের পায়ে দেখা যেত মার্জিত পাম্প শু, স্পোর্টস ট্রেইনার বা ব্যালে ফ্ল্যাটের মতো সাধারণ নকশার জুতা। কিন্তু ফ্যাশনের সেই চেনা চিত্র এখন বদলে গেছে। ডিজাইনাররা ইচ্ছাকৃতভাবেই অদ্ভুত ও বিতর্কিত নকশার জুতা তৈরি করছেন। অনেকের কাছে কুৎসিত মনে হলেও ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে এগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
লন্ডনের সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিনস ফ্যাশন স্কুলের শিক্ষক ডাল চোধা মনে করেন, জুতার ফ্যাশনে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছে। ফ্যাশন সার্চ প্ল্যাটফর্ম লাইস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ট্যাবি নকশার জুতার চাহিদা চার গুণ এবং ভিব্রামের ফাইভফিঙ্গারস জুতার চাহিদা ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।
বাড়ির বাইরে যাওয়ার সাধারণ জুতা এখন জায়গা করে নিচ্ছে অফিসের পোশাকে বা বিয়ের অনুষ্ঠানেও। সিমোন রোচা ক্রোকসের জুতার নকশায় মুক্তা ও রত্ন বসিয়েছেন। আবার ইট্রো ও ডিওরের মতো ব্র্যান্ডও কর্কের ক্লগ জুতাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। ফরাসি ব্র্যান্ড গার্ডানাসের ক্লগ জুতা বা জারা ও জন লুইসের ‘স্নিকারিনা’ ও ‘স্নোফার’-এর মতো সংকর নকশাও বেশ নজর কাড়ছে।
হিল জুতাও এসেছে নতুন রূপে। চুপসে যাওয়া বেলুন বা ভাঙা ডিমের আদলে তৈরি হিলের পাশাপাশি মোটা ‘নিপল হিল’ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফ্যাশনের এই অদ্ভুত রূপ নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মধ্যযুগে ইউরোপে লম্বা নাকের ‘পোলেইন’ বা ১৫ শতকে প্ল্যাটফর্মের ‘চোপিন’ জুতার প্রচলন ছিল। ভ্যালেরি স্টিলের মতে, অদ্ভুত জুতা পরার মাধ্যমে মানুষ প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণার সঙ্গে খেলতে পারে এবং পোশাকে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে পারে।
তরুণদের মাঝে প্রচলিত রুচির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার একধরনের পাঙ্ক মানসিকতা কাজ করছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ‘সফট লাইফ’ জীবনধারার কারণেও মানুষ এখন কঠোর পরিপাটি রূপের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সব মিলিয়ে জুতা এখন শুধু হাঁটার উপকরণ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স