ঢাকার আদালত চত্বরে আজ চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করতে আজ সকালে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছানো মাত্রই তাকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা, সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে আদালত চত্বরে সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। প্রচণ্ড ভিড় এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে আদালত চত্বরে চলাচলের সময় এই চিত্রনায়িকাকে কিছুটা বিরক্তি ও অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই আজ তার এই আদালতে আগমন ও আত্মসমর্পণ ঘটে।
পরীমনিকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণের এই ভিড় ও গণমাধ্যমের বাড়তি নজরকাড়া উপস্থিতি ঢাকাই সিনেমার এই নায়িকার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রবল কৌতূহলকে আবারও সামনে এনেছে।
এর আগে গত বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। যদিও পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান। ওইদিন পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরোয়ানা জারির একদিন পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে পরীমনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বাদীর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করা হয় এবং একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।
সূত্র: কালবেলা