প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে জাতীয় সংসদে ‘ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠনের প্রস্তাব উঠেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতি প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ড. চার্লস রিড ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজায় সরকারের সহযোগিতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করে।
ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা জোরদারে সংসদীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি পার্লামেন্টারি ককাস গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করেন।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ এ দেশের সমান নাগরিক।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা সমুন্নত রাখতে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, ‘ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা বিষয়ে পার্লামেন্টারি ককাস গঠন একটি চমৎকার উদ্যোগ হতে পারে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নীতি প্রণয়নে সহায়তা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে।’
বর্তমান সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদে সব সদস্যের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি বর্তমান সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা, যা অতীতে সেভাবে দেখা যায়নি। ভিন্নমত ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কায়সার কামাল বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন, স্বাধীনভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শ ধারণ ও পালন করতে পারবেন এবং সবার অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স উপদেষ্টা শাহনাজ করিম, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট উপদেষ্টা তাহেরা জাবীন, এফওআরবি প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়ক রুহী নাজ ও জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক শশাঙ্ক বরণ রায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: কালবেলা