গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভিত নড়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভিত নড়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা জোরদার করেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের দীর্ঘদিনের সমর্থনে বিভেদ তৈরি করেছেন।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও অন্য দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ফলে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের পক্ষে নতুন সরকার গঠন করে নেতানিয়াহুকে সরানো সহজ হচ্ছে না।

রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা। এর মধ্যে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই দলই ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে ওয়াশিংটন প্রতিবছর ইসরায়েলকে বিপুল সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের পক্ষ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের।

২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমতে শুরু করে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের একাংশও এ নিয়ে সমালোচনা করেন। চলতি বছর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথভাবে ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের পর অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

এবারের নির্বাচনে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনাকে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করেন। নির্বাচনের দিন ট্রাম্পও ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন। তার দাবি, এতে ডেমোক্র্যাটদের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার দুর্বল হবে। তবে এত দিন তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন।

আইজেনকোট বুধবার বলেন, তার নেতৃত্বে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও গভীর করা হবে এবং সম্পর্কের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে।

ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থি বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান বলেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, নেতানিয়াহু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কাছেই কতটা ক্ষতিকর হয়ে উঠেছেন।

মধ্যপন্থি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও বলেছেন, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে ঝুঁকিতে ফেলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থানও দুর্বল করছে।

নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোটের হাতে যাবে, তা স্পষ্ট হতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লাগতে পারে। নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে একজন ব্যর্থ হলে অন্যজনকে সুযোগ দেওয়া হবে। দুজনই ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উডি সোমারের মতে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নতুন মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পররাষ্ট্রনীতির বেশির ভাগ ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকলেও শুনানি, তদন্ত ও বাজেটের মাধ্যমে কংগ্রেস ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সোমার বলেন, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং রিপাবলিকানদের পরাজয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।