গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে রহস্যময় রেডিও সংকেত শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে রহস্যময় রেডিও সংকেত শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে উন্নত সভ্যতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আমাদের জানার শেষ নেই। আর তাই দীর্ঘদিন থেকেই ভিনগ্রহে কোনো প্রাণী রয়েছে কি না, তা জানতে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধান করতে গিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি রহস্যময় রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন। চীনের বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ ফাস্টের পুরোনো তথ্যগুলো নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পর্যালোচনার সময় এই সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পৃথিবী থেকে প্রায় ২৩৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কেটু–১৫৫ নক্ষত্র সিস্টেম পর্যবেক্ষণের সময় এই সংকেতের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সিস্টেমে তিনটি সুপার–আর্থ রয়েছে, যার একটি নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় এ ধরনের সংকেত খুব কম তৈরি হয়ে থাকে। কৃত্রিম ট্রান্সমিটার সাধারণত নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির সংকেত তৈরি করায় এ ধরনের সংকেত ভিনগ্রহের প্রযুক্তির সন্ধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংকেতটি শুধু কেটু–১৫৫ নক্ষত্রের দিকে লক্ষ্য করা টেলিস্কোপের নির্দিষ্ট রিসিভার বিমে ধরা পড়েছে। বাকি ১৮টি বিমে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংকেতের ফ্রিকোয়েন্সিও নিয়মিতভাবে পরিবর্তন হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করা এবং সেটির সঠিক উৎস নিশ্চিত করা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা চ্যালেঞ্জ। সফটওয়্যার কেবল অনুসন্ধানের উপযোগী সংকেত চিহ্নিত করতে পারে, কিন্তু ঠিক কী কারণে সেটি তৈরি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারে না।

চীনের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ফাস্ট টেলিস্কোপটি বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ। টেলিস্কোপটির ডিস্ক প্রায় ১ হাজার ৬৪০ ফুট চওড়া, যা প্রায় ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান। বিশাল এই পৃষ্ঠ মহাকাশ থেকে দুর্বল রেডিও তরঙ্গও সংগ্রহ করতে পারে। আর তাই নতুন এই গবেষণা পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব ও মহাজাগতিক যোগাযোগের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পৃথিবী থেকে প্রায় ২৩৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কেটু–১৫৫ নক্ষত্র সিস্টেমের বাইরে থাকা গ্রহগুলো নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে সেখানে তরল পানি থাকার উপযোগী পরিবেশও থাকতে পারে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।