প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ৮০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে নতুন পর্যটন মৌসুমের প্রথম জাহাজ এমভি বারো আউলিয়া। পর্যটকদের পদচারণায় আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে। পর্যটননির্ভর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি, আনন্দ ও নতুন আশার সঞ্চার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার থেকে ৮০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। পরে দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় পর্যটকদের বরণ করে নেন। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে দ্বীপজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
নতুন মৌসুমের শুরুতে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীদের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সেন্টমার্টিনে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ। পর্যটকদের আগমনে দ্বীপজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বীপে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে পর্যটন মৌসুমের এই আনন্দঘন সূচনার পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দ্বীপের প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা না করা গেলে পর্যটনের এই আকর্ষণ দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন ও প্রকৃতি সেন্টমার্টিনের অমূল্য সম্পদ। তাই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স