গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

আগামী ২ মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
আগামী ২ মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে।  তিনি বলেন, খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের তরুণদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তন করা হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। এ অঞ্চলে অসংখ্য মিল-কারখানা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে উঠুক। এতে তরুণদের কর্মসংস্থান হবে, অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং অবহেলিত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। তবে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ নিজের কর্মস্থল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি চান না। অথচ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কিছু লোক কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে, গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ধ্বংস করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তারেক রহমান আরও বলেন, গত প্রায় ৫০ বছরে দেশে তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। একটি মহল নিজেদের স্বার্থে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায়। যারা একসময় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো শুধু মালিকদের সম্পদ নয়, এগুলো দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, সোমনাথ দেসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।