গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত দিল্লি

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত দিল্লি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) শহরের কয়েকটি এলাকায় বাতাসে ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র কণা পিএম ২.৫ এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ করা দৈনিক সীমার ৩০ গুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে তিন দিন আগে যান চলাচল ও নির্মাণকাজে বিধিনিষেধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ জোরদার করেছিল কর্তৃপক্ষ। তবে তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ৩ কোটির বেশি মানুষের বসবাস এই মহানগরীতে শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ প্রতিবছরই ভয়াবহ রূপ নেয়।

আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে আতশবাজি পোড়ানোর কারণে দূষণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

চলতি মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্গমন কম হয়, এমন ‘সবুজ’ আতশবাজি সীমিত পরিসরে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ প্রায়ই অমান্য করা হয়। ফলে উৎসবের সময় আতশবাজির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে শহর।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিল্লির কিছু এলাকায় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৪৬১ মাইক্রোগ্রামের বেশি ছিল। এসব অতিক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শীতকালে দিল্লির বায়ুদূষণের ২৩ শতাংশের জন্য দায়ী যানবাহন। কৃষিজমির ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোসহ জৈব পদার্থের দহনে তৈরি হয় ২০ শতাংশ দূষণ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্পকারখানার অবদান প্রায় ৯ শতাংশ। সবচেয়ে বড় অংশ, ২৭ শতাংশ, আসে বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া গৌণ কণা থেকে।

দূষণবিষয়ক নতুন বই ‘দ্য নাইট্রোজেন বম্ব’-এর লেখক ও সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর বিজ্ঞান সম্পাদক জ্যাকব কোশির মতে, রাজধানীর আশপাশের কৃষিজমিতে বিপুল পরিমাণ সার ব্যবহারের কারণেও এসব কণা তৈরি হচ্ছে। সার থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া বায়ুর অন্যান্য দূষিত উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষতিকর কণা সৃষ্টি করে।

২০২৪ সালে গবেষণা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতে বায়ুদূষণের সঙ্গে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে।
  
সূত্র: সিএনএ

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।